শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫২:০১

মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল গরুর মাংস বিক্রি

মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল গরুর মাংস বিক্রি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : পবিত্র রমজান উপলক্ষে সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি কর্মসূচির প্রথম দিনেই রাজধানীতে দেখা গেল দীর্ঘ অপেক্ষা আর সীমিত সরবরাহের চিত্র। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় গাড়ি আসার কথা থাকলেও ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার আগে পৌঁছায়নি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের গাড়ি। ততক্ষণে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে অনেকে ফিরে গেছেন। 

সকাল ১০টার আগেই কম দামে গরুর মাংস, ডিম, দুধ ও মুরগি কেনার আশায় খামারবাড়ির পাশে অপেক্ষা করছিলেন আজিজুর রহমান। একইভাবে বেলা ১১টায় তেজকুনিপাড়া এলাকা থেকে এসে দাঁড়ান গৃহিণী মাহমুদা বেগম। তাদের মতো আরও ৪০-৫০ ক্রেতা নির্ধারিত সময়ের আগে এসে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু গাড়ি না আসায় অনেকে হতাশ হয়ে চলে যান।

দুপুরে গাড়ি পৌঁছানোর পর ভিড় দ্রুত বাড়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল গরুর মাংসের। কিন্তু ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সে মাংস শেষ হয়ে যায়। এরপর ভিড়ও কমে যায়। যারা লাইনে ছিলেন, অনেকেই খালি হাতে ফিরেছেন। ঢাকার সাতটি এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। গরুর মাংস দ্রুত শেষ হয়ে গেছে প্রায় সব জায়গাতেই।

রমজানজুড়ে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য সহজলভ্য করতে ২৫ রমজান পর্যন্ত এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। কর্মসূচির আওতায় ড্রেস্ড ব্রয়লার মুরগি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতিটা ৮ টাকা (ডজন ৯৬ টাকা) এবং গরুর মাংস কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ এক কেজি গরুর মাংস, একটি মুরগি, এক লিটার দুধ এবং এক থেকে দুই ডজন ডিম কিনতে পারছেন।  

মোহাম্মদপুর বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এক কেজি গরুর মাংস ও ড্রেস্ড ব্রয়লার, দুই লিটার দুধ এবং এক ডজন ডিম কেনেন আদাবরের বাসিন্দা কুতুব উদ্দিন। তিনি বলেন, গত বছরও সুলভ মূল্যে পণ্য কিনেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছি। তবে এবার মাংসে চর্বি ও হাড়ের পরিমাণ কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। একই কেন্দ্রে ক্রেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, উদ্যোগ ভালো। কিন্তু গাড়িতে মাংসের পরিমাণ খুব কম।  
সরেজমিন জানা যায়, ফার্মগেটে প্রথম দিনে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল ৭০ কেজি গরুর মাংস, ৮০ লিটার দুধ, ৮০টি মুরগি ও ১ হাজার ২০০ ডিম। বিক্রয়কর্মী হাসিবুর রহমান বলেন, প্রথম দিন হওয়ায় বরাদ্দ কম ছিল। আজ শুক্রবার থেকে ১০০ কেজির বেশি গরুর মাংস আনা হবে।  

এর আগে সকালে মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে অন্তত ১০ লাখ পরিবারকে দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ফার্মগেট এলাকার এক ক্রেতা বলেন, প্রথম দিনেই যে চিত্র দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট– চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো না গেলে রমজানজুড়ে সুলভে বিক্রির এ উদ্যোগে ভোগান্তি কমবে না। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে