বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৬:৫৯

কারা হচ্ছেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার? এসেছে যাদের নাম

কারা হচ্ছেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার? এসেছে যাদের নাম

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদে স্পিকার হতে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

এছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন- নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি।

জানা গেছে, আগের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এবার স্পিকারের চেয়ারটি শূন্য রেখেই অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের শুরুতেই নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী মনোনয়নের মূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্পিকার হতে যাওয়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবি বীর বিক্রমে ভূষিত হন। ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ সাল থেকে পর পর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এসেও তিনি মানুষের মন কেড়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পর পর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।

বিজয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২৪ এর গণঅভুত্থানের পর লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদে যান। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে