এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দেশে আরও ৩৪ হাজার টন ডিজেল আসছে ভারত থেকে। এপ্রিলে এই ডিজেল দেশে আসবে। ইতোমধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) জ্বালানি বিভাগকে তেল দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে ১১ মার্চ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের পাইপলাইন দিয়ে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে আরও ৪৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রির প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক। এ কারণে তেলের ওপর রেশনিং তুলে নেওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার জ্বালানিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে এ বছরের জন্য ২ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ভারতের হাইকমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে অনেকদিন ধরে জ্বালানি সহযোগিতার চুক্তি আছে। সেই ব্যাপারে ভারত আলাপ-আলোচনা করছে। এর মধ্যে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আইওসিএল এক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, আপাতত তারা ৩৪ হাজার টন ডিজেল দিতে পারে। বাকি চাহিদার ব্যাপারে তারা পরে জানাবে।
ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক দামে দেশটি থেকে পরিশোধিত ডিজেল কিনছে। এর সঙ্গে তেলের পরিবহণ খরচ হিসাবে প্রতি ব্যারেলে ৫ ডলার করে প্রিমিয়াম দিতে হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসিকে। ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের কাছে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রতিবছর ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল ক্রয়ের কথা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এ বছর সরকার সেই জায়গায় ২ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল দিতে বলেছে ভারতকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গত সপ্তাহে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশে তেল বিক্রির ব্যাপারে চিন্তা করছে। কারণ, ভারত প্রথম তার নাগরিকের চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশীদের তেল দিতে চাইছে।
এর মধ্যে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর কিছু শর্তে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। আগে থেকেই ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম ক্রেতা। এখন ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় ভারতের জন্য বেশ সুবিধা হয়েছে। এখন তারা প্রতিবেশী দেশে তেল বিক্রি করতে পারছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬৬ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ডিজেলই ৪৪ লাখ টনের বেশি। এ বছর গ্যাসের সংকট বাড়তি থাকায় এ চাহিদা আরও বেড়ে যাবে। বিপিসি জানিয়েছে, এখন চলছে ইরি-বোরো মৌসুম। এ মৌসুমে সেচ কাজের জন্য কৃষকদের ৮ লাখ টন ডিজেল দরকার হয়। তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এখন ইরি-বোরো সেচ অনেকটা এগিয়ে আছে। ডিজেল চাহিদা অনেকটা কমে এসেছে। বেশির ভাগ এলাকা চাষের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই সেচের জন্য ডিজেলের খুব বেশি চাহিদা নেই।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মার্চে ডিজেল এবং অকটেন, পেট্রোল সরবরাহে তেমন কোনো সমস্যা নাও থাকতে পারে। এপ্রিলে ভারত এবং অন্য সোর্স থেকে পেলে দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘোরাতে সমস্যা হবে না।