এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন করতে ২০১৫ সালে আইন সংশোধন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পাঁচটি আইন সংশোধন করা হয়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ অধ্যাদেশ আইন আকারে পাস হবে কি না এবং তাতে দলীয় প্রতীক ও পরিচয় থাকবে, নাকি বাতিল হচ্ছে—সে অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন।
দেশে কয়েকটি স্তরে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হয়। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও প্রায় ৪ হাজার ৫৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
সর্বশেষ সারা দেশে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বশেষ বড় পরিসরে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০-২১ সালে, কয়েকটি ধাপে। ৬৪টি জেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। ওই নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়েছে বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বে নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট তিন পার্বত্য জেলা বাদে সব জেলা পরিষদে প্রশাসক বসানো হয়েছিল। এর মধ্যে যেসব জেলায় বিভাগীয় শহর পড়েছে, সেখানে প্রশাসকের দায়িত্ব পান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরপরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৪ মার্চ পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। তার আগে এতদিন এসব পদ আমলা দিয়ে চলছিল।
সর্বশেষ রোববার দেশের ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ করে জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩ এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) প্রশাসক দিয়ে নগরের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে দ্রুত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ও নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মুহাম্মদ খান কালবেলাকে বলেন, সরকারের উচিত ছিল নির্বাচন আয়োজনে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু সেটি না করে যা করা হয়েছে সেটি হলো দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন। নির্বাচনের উদ্যোগ না নিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ ভালো ইঙ্গিত দেয় না।
তিনি বলেন, এই প্রশাসকরা পরে নির্বাচন হলেও তাতেও প্রভাব বিস্তার করবেন। প্রশাসক নিয়োগটা হলো একটা কুপ্রথা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কার্যকর থাকে না এবং এগুলো তখন আর জনগণের কাছে দায়বদ্ধও থাকে না। ফলে জনগণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
এদিকে, শিগগির স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শিগগির হবে। রমজানের পরেই স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কোনো চেয়ার কখনো খালি থাকে না। ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে প্রশাসক নিয়োগ করারই কথা, এর সঙ্গে নির্বাচনের বিরোধ আছে বলে আমরা মনে করি না।
প্রশাসক নিয়োগের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে কি না—জানতে চাইলে ইসি মাছউদ বলেন, আমরা তা মনে করি না। সবচেয়ে বড় কথা হলো—আমরা তো নির্বাচন কমিশন, সব ইলেকশনে একত্রে করতে পারব না, সেটা সম্ভবও না।