বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৫:৫৮

তবে কি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ছে? যা জানা গেল

তবে কি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ছে? যা জানা গেল

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বর্তমানে দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা। 

চাকরি ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কারণে এ বয়সসীমা নতুন করে বিবেচনার দাবি উঠেছে।  

এ প্রস্তাবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সব পক্ষই একমত। এটি সংসদে নতুন করে বিল আকারে উত্থাপন করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা দীর্ঘদিন ৩০ বছর ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার এ সীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে।  

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও দেখা যায়, অনেক দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলনামূলক বেশি। 

২০১২ সাল থেকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন আন্দোলন শুরু করে। 

সংগঠনটি এ দাবি তুলে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে অনেকবার। তবে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সময়ে এ দাবি মানেনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হলে ‘বিপর্যয় ঘটে যাবে’ বলে সতর্ক করে ছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, এ বয়সে চাকরি পেলে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে কাজে যোগ দিতেই তাদের ৩৭ বছর পার হয়ে যাবে।

এ যুক্তিতে আন্দোলনকারীদের দাবি নাকচ করেছিলেন শেখ হাসিনা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রবল গণআন্দোলন ও জনরোষের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ক্ষমতায় বসে অন্তর্বর্তী সরকার।

সবশেষ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ‘চাকরিতে বয়সের আবেদনসীমা ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদ’ আন্দোলন শুরু করলে সরকার একটি কমিটি করে দেয়।

সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির কাজ বিষয়টি যাচাই বাছাই করে সরকারের কাছে সুপারিশ করা।

অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করে অধ্যাদেশ জারি করে।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হলে ‘বিপর্যয় ঘটে যাবে’।  এ বয়সে চাকরি পেলে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে কাজে যোগ দিতেই তাদের ৩৭ বছর পার হয়ে যাবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের সঙ্গে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।  মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান। 

তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বয়স ৩৫ করার প্রস্তাব করা হলে তা বিল আকারে সংসদে তুলতে বলেছে সরকারি দল।

এ প্রস্তাবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সব পক্ষই একমত। এটি সংসদে নতুন করে বিল আকারে উত্থাপন করা যেতে পারে।

জামায়াত নেতা ও দলীয় এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর রাখতে কমিটির সবাই একমত। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৬ ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ- ২০২৫ নিয়ে আরও আলোচনা হবে। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। 

তিনি বলেন, বৈঠকে আলোচনা হওয়া বেশিরভাগ অধ্যাদেশ সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। প্রথম দিনের বৈঠকে ২৭ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছাড়া বাকি অধ্যাদেশের অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে কমিটি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে