এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবসহ নানা কারণে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেল বিশেষ করে পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের দাম মনপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে। গত এক মাসে ধাপে ধাপে এই মূল্য বৃদ্ধি ঘটে।
তবে যুদ্ধ বন্ধের খবরে বুধবার একই বাজারে বেচা-কেনা একেবারে স্থবির হয়ে যায়। বাজারে ক্রেতারা যেমন খাবার তেল কেনা বন্ধ করে দেন; তেমনি বিক্রেতারাও বিক্রি বন্ধ রাখেন। যুদ্ধ বন্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট কমে যাওয়া এবং পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের জন্যই আপাতত বেচা-কেনা বন্ধ রাখা হয় বলে জানান বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এদিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুত করেছেন। চড়াদামে বিক্রিও করেছেন বাজারে। এই মজুতদারি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঙ্গল ও বুধবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে। এ ছাড়া ২১ হাজার ৬০০ লিটার মজুতের অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। র্যাব ও বিএসটিআই যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক মাস আগে পাম অয়েল প্রতিমন বিক্রি হয় ৬ হাজার ১০০ টাকা দরে। এক মাসের ব্যবধানে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ টাকায়। একইভাবে সুপার পাম অয়েল এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি মন। ৩০০ টাকা বেড়ে এক মাসের ব্যবধানে এই তেল মঙ্গলবার বিক্রি হয় ৬ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ পাম অয়েল এবং সুপার পাম অয়েল-দুটি পণ্যের দাম মনপ্রতি ৩০০ টাকা করে বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মীর মোহাম্মদ হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এর কী প্রভাব পড়ে-তা পর্যবেক্ষণের জন্যই মূলত বেচা-কেনা বন্ধ করে দেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। খাতুনগঞ্জের আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোসলেম বলেন, মালয়েশিয়ায় ভোজ্যতেলের (ক্রুড অয়েলের) বুকিং রেট মঙ্গলবার ছিল প্রতি টন ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিংগিত, সেখানে বুধবার তা ১৮০ থেকে ২০০ রিংগিত পর্যন্ত কমে যায়। যুদ্ধ বন্ধের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে এই দরপতন হয়েছে। এর ধাক্কা লেগেছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও। এই ব্যবসায়ী আরও জানান, প্রতিদিন খাতুনগঞ্জে ৩০০ থকে ৪০০ গাড়ি ভোজ্যতেলের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) বেচা-কেনা হয়। সেখানে দরপতনের প্রভাবে বুধবার ডিও বেচা-কেনা হয়নি বললেই চলে।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতি সূত্র জানিয়েছে, দেশে ভোজ্যতেলের বাজার আমদানিকারক, মিল মালিক ও বড় বড় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নাজের হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভোজ্যতেল নিয়ে উদাসীন ছিল। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও দেশের বাজারে সেই অজুহাতে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কঠোরভাবে মনিটরিং করা।