শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২১:২৯

হঠাৎ কি হলো সয়াবিন তেলের বাজারে!

হঠাৎ কি হলো সয়াবিন তেলের বাজারে!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাজারে ঠিকঠাক বোতলজাত সয়াবিন মিলছে না। সোনালি মুরগি কিনতে হচ্ছে রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে। এছাড়াও এখন ৮০ টাকার নিচে পেঁপে-গাজর ছাড়া তেমন কোনো সবজিও নেই। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা।

হঠাৎ কি হলো সয়াবিন তেলের বাজারে! শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও সরবরাহ কম। আধা লিটার, এক ও দুই লিটারের বোতল বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে।

এখন সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা। অন্যদিকে, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের নির্ধারিত দাম ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চারদিন ধরে একেবারে অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।

রামপুরা বাজারের এনামুল হক নামের এক দোকানি বলেন, কোম্পানি তেলের অর্ডার নিচ্ছে না। কোনো কোনো কোম্পানি বলছে, তেল নিতে হলে সঙ্গে অন্য পণ্য নিতে হবে। আমরা বিভিন্ন পাইকারি দোকান থেকে তেল এনে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, তেল না থাকলে ক্রেতারা অন্যান্য পণ্যও নিতে চায় না। রেগুলার ক্রেতা ফিরে যায়। বেচাবিক্রি কমে যায়। যে কারণে বেশি টাকা দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে তেল এনে বিক্রি করছি।

এদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। যা কদিন আগেও ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।

খামারিরা বলছেন, খামারে খামারে বার্ড ফ্লুসহ নানান রোগে ব্যাপক হারে মুরগি মারে যাচ্ছে। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সোনালি মুরগির চাহিদাও অনেক কমে গেছে।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ২২০ টাকায় উঠে যাওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে, বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। পাড়া-মহল্লার কিছু কিছু খুচরা দোকানে ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বেশিরভাগ সবজিই এখন ৮০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলুর কেজি ২৫ আর পেঁপে-গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে এখন প্রতি কেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও কাকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

তবে কম রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে