শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬:৩৪

হঠাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে মুরগি বিক্রি

হঠাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে মুরগি বিক্রি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : তিনদিন আগে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। শনিবার (১১ এপ্রিল) আবারও সেটা বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পর থেকে রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগি আবারও ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা তিনদিন আগে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় নেমেছিল।

অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব বেশি হেরফের হয়নি। বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা দরে।

এছাড়া লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজার তথ্য বলছে, অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম ঠিক থাকলেও প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কারণ আগে প্রতি কেজি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা ছিল। এ দাম গত ঈদের পরে থেকেই চড়া।

এছাড়া দেশি মুরগির দাম আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। যা ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি প্রতি কেজিতে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা এনামুল বলেন, দাম বাড়ার কারণে বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারপরও সরবরাহ কম। মূলত মুরগির বিভিন্ন রোগ ও এর সঙ্গে গাড়িভাড়া বেড়ে এ সমস্যা হয়েছে।

হাজীপাড়া বউ বাজারে আরেক দোকানি খালেক জানান, একটু দাম কমা শুরু হতেই তিনদিন বাদে আবার সেটা বেড়ে গেলো। শুক্রবার থেকে পর্যাপ্ত সোনালি মুরগি বাজারে আসছে না, আবার আগের মতো গাড়িও আসছে না।

তবে একই সময় ব্রয়লার মুরগির দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে কখনো সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা ছাড়ায়নি। এবার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে বর্তমান দামকে রেকর্ড বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, খামার থেকে হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়াই এ দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।

কেন খামার থেকে সরবরাহ কম?
বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফাহাদ হাবিব বলেছিলেন, জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর চেয়ে বড় কথা একই সময়ে বার্ড ফ্লুর মতো রোগ বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ) বলছে, পোলট্রি খাতে বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগের আক্রমণ বেড়েছে। পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত ওঠানামার কারণে খামারগুলোতে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির খামারে এর প্রভাব এখনো সীমিত পরিসরে থাকলেও সোনালি বা কালার বার্ড হিসেবে পরিচিত মুরগির উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে গেছে।

খামারি ও এসব সংগঠন জানায়, গত এক মাসে পোলট্রি খাতে বার্ড ফ্লুর আক্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি হুট করে গরম আসায় নানা রোগের কারণে হঠাৎ করেই খামারগুলোতে ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে। কোনো কোনো খামারে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মুরগি মারা যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

মুরগির বাজারে ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। বাকি ৩০ শতাংশ সরবরাহ আসে কালার বার্ড অর্থাৎ সোনালি ও লেয়ার জাতের মুরগি থেকে।

বিপিআইএ’র সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, গত এক মাস ধরে হঠাৎ করেই খামারগুলোতে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়েছে। ব্যাপক হারে মুরগি মারা যাচ্ছে এই সংক্রমণে। এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে আমাদের পর্যাপ্ত মেডিসিন বা ভ্যাকসিন থাকার পরও এটাকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ব্রয়লারে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। তবে সোনালি মুরগির খামারগুলোতে কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত, কোথাও কোথাও আরও বেশি মুরগি মরছে। এ কারণে বাজারে ব্যাপক সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে