এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : টিআইএন হলো একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশে করদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) হলো একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশে করদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি করদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসাবে কাজ করে এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করতে পারে।
টিন সার্টিফিকেট যেসব কাজে প্রয়োজন
টিন সার্টিফিকেট শুধু ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের জন্যই নয়, বিভিন্ন নাগরিক ও আর্থিক কাজে এটি প্রয়োজন হয়। যেমন—
ব্যবসার লাইসেন্স নিতে
নতুন গাড়ি ক্রয়ে
ক্রেডিট কার্ড নিতে
জমি ক্রয়-বিক্রয়ে (সিটি কর্পোরেশন/পৌর এলাকায়)
কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে
নির্বাচনে প্রার্থী হতে
আইনজীবী, প্রকৌশলী ও চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত নিবন্ধনে
ব্যবসায়ী সমিতি বা সংগঠনের সদস্য হতে
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে
সরকারি ও আধা-সরকারি টেন্ডার জমা দিতে
রাইড শেয়ারিং (উবার, পাঠাও ইত্যাদি) অংশীদার হতে
অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে (ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউব, ফেসবুক ইত্যাদি)
এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজে টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হতে পারে।
টিন সার্টিফিকেট করতে কী কী লাগে
ই-টিন সার্টিফিকেটের জন্য সাধারণত নিচের তথ্য ও কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
জাতীয় পরিচয়পত্র
বর্তমান ঠিকানা (বাসার ঠিকানা)
জেলা ও বিভাগ
মোবাইল নম্বর
বৈবাহিক অবস্থা (প্রযোজ্য হলে স্বামীর/স্ত্রীর তথ্য)
সব তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
আবেদন করার পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আবেদন শেষে ব্যবহারকারী একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পান। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে লগইন বা তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য এগুলো প্রয়োজন হতে পারে।
ই-টিন আবেদন করার ধাপসমূহ
ধাপ–১:
প্রথমে আবেদনকারীকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে:
https://secure.incometax.gov.bd/TINHome
এরপর ‘রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করলে আবেদন ফর্মে নিয়ে যাওয়া হবে।
ধাপ–২
এ পর্যায়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। সব তথ্য ইংরেজিতে দিতে হবে।
প্রথমে একটি ইউজার নেম দিতে হবে (অনেকে এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে থাকেন)
এরপর একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে
একই পাসওয়ার্ড ‘রিটাইপ পাসওয়ার্ড’ ঘরে পুনরায় দিতে হবে
‘সিকিউরিটি কোয়েশ্চান’ নির্বাচন করতে হবে (যেমন: জন্মস্থান, প্রিয় রং ইত্যাদি)
এই সিকিউরিটি প্রশ্ন ভবিষ্যতে ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।