এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জ্বালানি তেল, এলপিজির পর এবার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত সোমবার এই প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠানো হয়। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানিগুলোই সরাসরি কমিশনে মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করে থাকে।
সে অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (বিপিডিবি) সংশ্লিষ্ট বিতরণ কম্পানিগুলো প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং চলতি সপ্তাহেই তা কমিশনে জমা দিতে পারে।
এ বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা আইন অনুসারে পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তী ধাপে গণশুনানি শেষে কমিশন বিদ্যুতের নতুন দর নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসের শুরুতে নতুন দাম কার্যকর হতে পারে।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই মাসে দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে মোট ৫৯৯ টাকা। এ ছাড়া গত ১৮ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
সে সময় অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি বাড়ানো হয় ১৫ টাকা।
নতুন দামে এখন প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা করে। আর কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক স্তর অনুযায়ী ভিন্ন হারে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে লাইফলাইন গ্রাহক, যাঁরা মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের আপাতত এই মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫.৫০ টাকা বেশি।
ফলে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত আরো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। সরকার এরই মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এলএনজি, কয়লা ও তেলের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলছে। পাশাপাশি অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যয়ের চাপ আরো বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর ফলে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।