শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ০৮:৫৮:৪৪

শ্রেণিকক্ষে কাঁদছেন রামিসার বাবা, কাঁদছেন সহপাঠীরা

শ্রেণিকক্ষে কাঁদছেন রামিসার বাবা, কাঁদছেন সহপাঠীরা

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রামিসা রাজধানীর মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রামিসার শ্রেণিকক্ষে যান রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। সেখানে গিয়ে রামিসার সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, তাদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদলেন। তার সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও। একে অপরকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কান্না যেন কারওই থামছিল না। কান্না করতে করতে রামিসার সহপাঠীরা বলে, রামিসাকে কখনোই ভোলা যাবে না। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনি যেন কোনোভাবেই পার না পায়।

হত্যার শিকার রামিসার মায়ের ভাষ্য, মেয়েকে যখন নির্যাতন করা হয় তখন তার চিত্কার শুনতে পান তিনি। কিন্তু কল্পনায়ও ভাবতে পারেননি তার নিজের মেয়েই চিত্কার করছে। যখন বুঝতে পারেন মেয়ে নিখোঁজ, তখন খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও ততক্ষণেই ঘাতকের লালসার শিকার হয়ে জীবন হারিয়েছে শিশুটি। রামিসার মা পারভিন আক্তার বলেন, চিত্কার শুনেছিলাম, কিন্তু আমার মেয়েই যে চিত্কার দিচ্ছিল সেটা বুঝতে পারিনি। আমি মনে করেছি ওর সঙ্গে (বড় বোন রাইসার) গেছে।

এরপর দেখি ও (বড় মেয়ে) একা আসছে। তখনই আমি বুঝতে পেরেছি, খোঁজ শুরু করেছি। দরজা ধাক্কা দিয়েছি। সব ফ্ল্যাটের দরজা খুলছে, কিন্তু এই ঘরের দরজা খোলেনি। হত্যার পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে কি না জানতে চাইলে পারভিন আক্তার বলেন, কারণ কিছুই না, লালসা। আমার মেয়ে মাত্র দরজা খুলছে। একটা জুতা পরা, আর একটা জুতা পরতেও পারেনি। টান দিয়ে নিয়ে গেছে। একটা জুতা পড়ে থাকা দেখেই সন্দেহ হয়। তখনই এই দরজায় ধাক্কা দেই। পরে সব লোকজন এসে দরজা ভেঙেছে। পেছনের বাড়ির লোকজন তাকে ঐ দিক দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছে।

শিশুটির বড় বোন জানিয়েছে, রাস্তার ঐ পাশেই আমার চাচার বাসা। আমি চাচার বাসায় যাচ্ছিলাম। বোন আমার সঙ্গে বের হতে চাইছিল। আমি বলেছি ঘরে যাও। এরপর আমি ওকে রুমে রেখে বের হয়ে যাই। এরপর সে আমার পিছে পিছে বের হয়ে আসলেও আমি লক্ষ্য করিনি। তখনই দরজার বাইরে থেকে লোকটা ওকে টান দিয়ে নিয়ে গেছে। ও চিত্কার করেছিল, আম্মু শব্দ শুনেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) ঐদিনই আটক করা হয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে