মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ০২:২৪:১৯

‘দুই বছর আগে গরুর গোশত খাইছিলাম, এরপর কেউ খোঁজ নেয়নি’

‘দুই বছর আগে গরুর গোশত খাইছিলাম, এরপর কেউ খোঁজ নেয়নি’

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ‘আইজকা তিন বছর ধরে আমরা এই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকি। আমার শরীরও ভালো না। এক দিনের ওষুধ কিনলে বাকি চারদিন আর খাইতে পারি না। দুই দিন পর কুরবানির ঈদ। আমাদের যদি সরকার একখান গরু দিত, তাহলে সবাই মিলমিশে ভাগ করে খাইতে পারতাম।’

এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন হাজেরা বেগম। মেঘনা নদীর তীরবর্তী রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষের ঈদকেন্দ্রিক কষ্ট এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

প্রায় তিন বছর আগে মেঘনা নদীর পাড়ে মিয়ারহাট ও হাজিমারা এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে একবার গরু জবাই করে কুরবানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের দেওয়া কুরবানির গোশত পেয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছিলেন। তবে এবার সেই কোনো উদ্যোগ না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বাসিন্দারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বেপারীর হাট সংলগ্ন কারিমিয়া আশ্রয়কেন্দ্রে সরেজমিনে গেলে বৃদ্ধ হাজেরা বেগমসহ কয়েকজন তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কুরবানি দিতে না পারায় উপজেলার ৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত প্রায় সাড়ে ৪০০ পরিবার এবারের ঈদ কাটাবে নিরানন্দে। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেঘনার তীরবর্তী কারিমিয়া ও মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বাসিন্দাদের মুখে ক্লান্তি ও হতাশার ছাপ। কোনোভাবে দুই বেলা খেয়ে তারা দিন পার করছেন। ঈদ উদযাপনের চিন্তা কারও মধ্যেই নেই।

দিনমজুর মন্তাজ হোসেন ও আবদুল মান্নান বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রে রিমাল ও টানা বৃষ্টিতে পুরো কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতা হয়। দুই বছর আগে মিয়ারহাট আশ্রয়কেন্দ্রে গরুর গোশত খাইছিলাম, কিন্তু এরপর আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।  বাড়িতে থাকলে অন্তত কেউ না কেউ কুরবানির গোশত দিত, এখানে কে দেবে?

আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা কন্যা বিধবা হামিদা বেগম বলেন, দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঈদ করতে হবে—এটা কখনো ভাবিনি।  নদীভাঙনে সব হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। নিজেরাই ঠিকমতো খাবার পাচ্ছি না, ঈদের কথা ভাবার সুযোগ নেই।

হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্রের সভাপতি ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের ছেলে চান মিয়া বলেন, ২০২২ সালে এখানে প্রশাসন থেকে গরুর গোশত দেওয়া হয়েছিল।  এরপর মিয়ারহাটে একবার গরু জবাই করা হয়েছিল। 

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।  তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু জবাইয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।-যুগান্তর

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে