বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ০৮:৪০:২৫

‘থানা পুড়িয়েছি’ বলা বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদী প্রাণভয়ে আশ্রয় নিলেন থানায়

‘থানা পুড়িয়েছি’ বলা বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদী প্রাণভয়ে আশ্রয় নিলেন থানায়

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ফেসবুকে রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে জেলা ছাত্রদল। পুলিশও প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে মাহাদী হাসান দাবি করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন এবং পরে বাড়িতে ফিরে যান।

 জানা যায়, বুধবার দুপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার কাজে বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মাহাদী হাসান। সেখান থেকে ইজিবাইকে করে বাসায় ফেরার পথে কিছু ছাত্রদলকর্মী তাকে ধাওয়া করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভেও আসেন এবং পরে সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।

 মাহাদী হাসানের দাবি, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন। এতে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিছু নেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। তাদের দাবি, নিজে ভাইরাল হতে মিথ্যে হামলার অভিযোগ তুলে মাহাদী সাজানো নাটক করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, ‘মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়া বা তাড়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের প্রচার ও গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এমন দাবি করে ভাইরাল হতে চেয়েছেন। যদি সত্যিই ধাওয়ার ঘটনা ঘটত, তবে তার ফেসবুক লাইভেই সেই দৃশ্য দেখা যেত।’

থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী হাসান থানায় পৌঁছানোর সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর এক উপপরিদর্শক (এসআই) থানার বাইরে গিয়ে খোঁজখবর নিলেও কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী প্রায় এক ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কেও বিষয়টি অবহিত করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, মাহাদী হাসানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী মাহদী। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সদস্যসচিব।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন মাহদী। সে সময় সংগঠনের হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকায় আরও পরিচিতি পান।

গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আটক করে। এরপর মাহদী অনুসারীদের নিয়ে থানায় যান এবং নয়নকে আটকের কৈফিয়ত চান পুলিশের কাছে। এমন একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলছিলেন, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে