শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ০৯:৩৯:০৫

সাড়া না পেয়ে কবরের মাটিতে হাত চাপড়ে মাকে বের করার চেষ্টা অবুঝ শিশুর

সাড়া না পেয়ে কবরের মাটিতে হাত চাপড়ে মাকে বের করার চেষ্টা অবুঝ শিশুর

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ছোট্ট শিশু ‘ওকেয়া’ কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মাকে ডাকছে। সাড়া না পেয়ে কবরের মাটিতে হাত চাপড়ে মাকে বের করার চেষ্টা করছে। আর বলছে ‘মাকে এনে দাও’। কিন্তু তিন বছর বয়সী অবুঝ এই শিশুটি জানে না তার মা এই দুনিয়াতে আর নেই।

এমন দৃশ্য দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি কেউ। শোক আর মা হারা ‘ওকেয়া’র বিলাপে গোটা এলাকায় নেমে আসে নিস্তব্ধতা। এমন ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কবিরাজ বাড়িতে। গত ৪ মে ভোলা পৌর এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে ‘ওকেয়া’র মা মিতু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সুমিকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছে। পরে বাবার বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে মিতুকে। মায়ের স্পর্শ পেতে প্রতিদিন পারিবারিক কবরস্থানে ছুটে যায় ওকেয়া।

স্থানীয়রা জানান, ওকেয়ার মা মিতুকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এরপর থেকেই শিশুটি প্রায় প্রতিদিন সেখানে যায়। কখনও কবরের পাশে বসে থাকে, কখনও মাটি খুঁড়ে তার প্রিয় মাকে বের করে আনার চেষ্টা করে। শিশুটির এই অবুঝ ভালোবাসা ও মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।

ওকেয়ার নানা বশির কবিরাজ জানান, ঘুম থেকে উঠেই মেয়েটি মায়ের খোঁজ করে। খাবারের সময় মাকে ডাকে, রাতে ঘুমানোর সময়ও মায়ের জন্য কাঁদে। কবরের কাছে ছুটে যায়। হাত ধরে টেনেও আনা যায় না। সে জানে, ওর মা মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে।

তিনি বলেন, শিশুটি এখনও বুঝতে পারেনি তার মা আর ফিরবে না। প্রতিদিন কবরের কাছে গিয়ে মাকে খুঁজে বেড়ায়। এই দৃশ্য আমাদের সহ্য হয় না।

মিতুর পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করা হতো মিতুকে। তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি এবং ননদসহ দোষীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন মিতুর বাবা।

দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. হাবিবুল্লাহ হাওলাদার বলেন, যতদূর শুনেছি এটি আত্মহত্যা। তবে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে স্বজনদের। এছাড়া সম্প্রতি মিতুর ছোট্ট মেয়ের কবরের কাছে গিয়ে মাকে ডাকা, কবর থেকে মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টার যে ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার দাবি জানান তিনি।

ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৪ জুন মিতু স্বামীর বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর দিনই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী-শাশুড়ি এবং ননদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে