বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৯:১৩

নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন কাঠামোয় মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, পেনশনে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় এবং শিক্ষা, টিফিন ও বৈশাখী ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর আগামী ১ জুলাই থেকে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের গেজেট যে কোনো সময় প্রকাশ হতে পারে। ইতোমধ্যে বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা প্রস্তুত হয়েছে এবং সেখানে তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একবারে পুরো কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বা বেসিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা কার্যকর ধরা হলেও বাস্তবায়ন হবে পর্যায়ক্রমে। এতে সরকারের বেতন খাতে বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন কাঠামোতে প্রথম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়।

একইভাবে দ্বিতীয় থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একই হারে বেতন বৃদ্ধি করা হলে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেসিক ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও চূড়ান্ত রূপরেখায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তবু নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুধু বেতন নয়, নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈশাখী ভাতা বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ রয়েছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।

এ ছাড়া কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা এসব ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোতে সুবিধা পেতে পারেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। এ বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় নতুন পে স্কেলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে