এমটিনিউজ২৪জবস : সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল হওয়ায় প্রকৃত বেতন বা নিট বৃদ্ধি ঘোষিত হারের তুলনায় কিছুটা কম হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু রয়েছে। এ সুবিধার আওতায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবম পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিশেষ সুবিধা পৃথকভাবে আর দেওয়া হবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে কাগজেকলমে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও প্রকৃত বা নিট বেতন বৃদ্ধির হার হবে তুলনামূলক কম।
হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির পুরো সুবিধা হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতনকে শক্তিশালী করাই নতুন পেস্কেলের অন্যতম লক্ষ্য। এতে অবসরপরবর্তী সুবিধা যেমন পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যুক্ত করলে এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।
বাজেট অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম পেস্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।
তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে কারণে জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ কর্মকর্তাকর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।