রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭:৪৬

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে। রাইংখ্যং নদীর পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাজার, বসতঘর ও সড়ক। তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল রাইংখ্যং নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায়। পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের দেড় শতাধিক দোকানে এখন কোমর পানি। তাই বন্ধ হয়ে গেছে পুরো বাজার। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

অন্যদিকে রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উপজেলা প্রশাসন ফারুয়ায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। শনিবার সকাল, দুপুর ও বিকেল তিন দফায় নৌকা নিয়ে ফারুয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেও ফিরে আসতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্রোতের তীব্রতা এতো বেশি যে কোনো নৌকাচালক যেতে সাহস পাচ্ছেন না। বিকল্প হিসেবে আগে সীমান্ত সড়ক দিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু এই প্রবল বর্ষণে সীমান্ত সড়কের ভিউ পয়েন্ট নামক স্থানে পুরা সড়ক ধসে গেছে,  ফলে সে পথও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে আশা করছি আগামীকাল স্রোতের তীব্রতা কমবে। আমরা ফারুয়া পৌঁছাতে পারবো।’

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য গতকাল থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে তীব্র  স্রোতের কারণে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি; ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই  চাল, ডাল ও তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করছি ।’

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা দুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গত রাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। তবে ফারুয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ঠিক কতজন আশ্রয় কেন্দ্রে আছেন তা বলা যাচ্ছে না।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে