এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দ্বৈত নাগরিক অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে এমন কোনো আইন নেই, যার প্রয়োগ দিয়ে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকানো যাবে।
সে জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের আইনেও সংসদের মতো একই বিধান যুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাবনা সরকারকে পাঠানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ইসি সরকারকে অনুরোধ করবে এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে। দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তি যদি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেন আলাদা নিয়ম থাকবে? স্থানীয় সরকার আইনে সংসদের মতো এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। সে জন্য ইসি সরকারকে স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এ বিধান যুক্ত করতে প্রস্তাব দেবে।’
স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার অংশে বলা হয়েছে, প্রার্থী যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু, কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিক হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে সম্পর্কে কিছু বলা নেই।
পৌরসভা অর্ডিন্যান্স ১৯৭৭-এ পৌরসভার চেয়ারম্যান বা কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার অংশে ধারা ১০(২)(গ)-তে বলা ছিল, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন, অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ/স্বীকার করেছেন এমন ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু পৌরসভার ২০০৯ সালের আইনের রহিতকরণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত ধারায় ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ রহিত করার কথা বলা হয়।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম আরো জানান, জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, ঋণখেলাপি বা বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনা পর্ষদে থাকা ব্যক্তিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বপদে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন ও নির্বাচনী আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনে সাজার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানোর চিন্তা করছে ইসি।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আইন করা কমিশনের দায়িত্ব না, সরকারের। কিন্তু নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংস্কারের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে পাঠাতে পারে।
কমিশনের এই প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, সংসদে যাবে। আমাদের এখনকার সংসদ অনেক কার্যকরী। সেখানে ডিবেট হবে। পক্ষে-বিপক্ষে মতামত থাকবে। তাঁরা যদি মনে করেন এটা যৌক্তিক, তাহলে করবেন। না হলে করবেন না।’
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় রাখার প্রস্তাব করা হবে। যেন প্রয়োজন পড়লে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসারের মতো তাঁদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজন না হলে ব্যবহার করব না।’