বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৬:২৭

অবশেষে যত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নবম পে স্কেল

অবশেষে যত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নবম পে স্কেল

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বহুল আলোচিত নবম পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকেই সচিব কমিটির প্রস্তাবিত সুপারিশমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। 

জানা গেছে, প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ ভাগ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আজ এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে সরাসরি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই নতুন স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে এবং সব ধরনের ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে চালু থাকা ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, মূল বেতন এক লাফে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ ভাতার আর কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার যে ব্যয় বেড়েছে, তাতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অত্যন্ত যৌক্তিক। এটি না করলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান ধরে রাখা এবং প্রশাসনে সততা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেত। 

তিনি জানান, বেতন বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তেমন সম্পর্ক নেই। অস্টম পে-স্কেলে সেরকম কিছু দেখা যায়নি। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মূল বেতনের পুরো অংশ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকেই দেওয়া শুরু হবে। তবে সরকারের ওপর হঠাৎ বিশাল আর্থিক চাপ কমানোর জন্য ভাতাসংক্রান্ত অংশটি দুই ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরে।

সচিব কমিটির আজকের বৈঠকে যদি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়, তবে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পর চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে এই নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশমালা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে