টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিখেত ও বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে সবজির তীব্র সংকট।
স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চিরিঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানেই অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়াছড়া সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়।
ঝিঙে, করলা, চিচিঙ্গা, বরবটি, বেগুন, শসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বন্যার আগে যে করলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, বেগুন ও বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, এখন সেগুলোর দাম উঠেছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন ও বরবটি আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। শসা ও টমেটোর দামও বেড়ে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বানিয়াছড়া বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানিতে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের লাভ আগের মতোই আছে, কিন্তু দাম বাড়ায় ক্রেতা কমে গেছে।’
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘বন্যার কারণে মাঠের পর মাঠ সবজিখেত পানির নিচে চলে গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আড়তে সবজির সরবরাহ নেই বললেই চলে। কৃষক ও বেপারিদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।’
হারবাং সবজি বাজারের ক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে, সেটা ঠিক। কিন্তু বাজারে এসে মনে হচ্ছে আমরা ক্রেতারাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় অর্ধেক সবজি কিনছি।’
এদিকে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, কাকারা, কৈয়ারবিলসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা সময়মতো মাঠের ফসল তুলতে পারেননি। এতে বাজারে স্থানীয় সবজির সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাইরের জেলা থেকে আসা সবজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চকরিয়ার কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা। অনেকেই এখন উৎপাদনের লাভের হিসাব না করে কীভাবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন এবং দেনা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক সবজিখেত তলিয়ে গেছে। মাঠের ফসল নষ্ট হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। মূলত সরবরাহ সংকটের কারণেই সবজির দাম বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি শাকসবজির বীজ ও সার বিতরণ করা হবে।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার অনেক সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুনরায় সবজি উৎপাদনের জন্য নতুন করে বীজ রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।