এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে হঠাৎ করেই ভিসা বাতিলের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শত শত কর্মীর রেসিডেন্স বা ওয়ার্ক ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। এতে আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২২ জুলাই থেকে এই স্বয়ংক্রিয় ভিসা বাতিলের ঘটনাটি ব্যাপকভাবে সামনে আসতে শুরু করে। অনেক প্রবাসী কর্মী যাঁরা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন, তাঁরা কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে ঢাকার বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন যে তাঁদের ভিসা আর কার্যকর নেই। আবার অনেক প্রবাসী আমিরাতের বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় জানতে পেরেছেন যে তাঁদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।
দেশে আটকে থাকা এবং আমিরাতে ফিরতে ইচ্ছুক এমন প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই অনলাইনে নিজস্ব আইডি বা পাসপোর্টের ‘স্ট্যাটাস’ চেক করে দেখতে পাচ্ছেন তাঁদের ভিসা ‘ক্যানসেল’ দেখাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে ঠিক কতজন বাংলাদেশি এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
কেন এবং কী কারণে এই কারিগরি বা আইনি জটিলতা তৈরি হলো, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কোনো কূল-কিনারা না পেয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা দলে দলে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনসুলেটে ধরনা দিচ্ছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়। পাকিস্তান, নেপালসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একই ধরনের স্বয়ংক্রিয় ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
মন্ত্রী আরো জানান, এ বিষয়ে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানে দূতাবাস পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগী প্রবাসীর আবেদনের তথ্য আমিরাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরো প্রায় এক হাজার ৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো ও তাতে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হালনাগাদ তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রের ওপর ভরসা রাখার আহবান জানানো হয়।
দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, এই ভিসা বাতিলের পেছনে কোনো বড় প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিক তথ্য ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব, বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই পুরো পরিস্থিতিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।