বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩:৫৬

১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার মৌখিক নির্দেশ

১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার মৌখিক নির্দেশ

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক বাজার ও রেমিট্যান্স চ্যানেল থেকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে।

বিষয়টি একাধিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
ব্যাংকারদের ভাষ্য, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা থাকলেও রেমিট্যান্সের ডলার ১২৩ টাকা ৯০ থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সার নিচে কেনা যাচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দরে ডলার সংগ্রহ করা অনেক ব্যাংকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, আন্তঃব্যাংক বাজারে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেক ব্যাংক ওই দরে লেনদেনে আগ্রহী হয়নি। তাদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর রাখতে হলে ডলারের দর চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হওয়া উচিত। কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণ করলে আন্তঃব্যাংক বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দর কম রাখতে চায়।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

জুনের শেষ দিক থেকে ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে আমদানির ঋণপত্রের দায় পরিশোধ করেছে। এরই মধ্যে চলতি জুলাইয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যেতে হলে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সীমিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। এর আগে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতেও এটি ছিল অন্যতম প্রধান শর্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সরকারি এলসির অর্থ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসির মাধ্যমে আমদানি দায় নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য বেশি। অন্যদিকে জুন মাসে প্রবাসী আয় গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ডলারের প্রবাহের তুলনায় বহির্গমন বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

টাকার মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে গত দেড় মাস ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনাও বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ ৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছিল।

ব্যাংকারদের মতে, ২০২২ সালের মতো পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি না হয়।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে