এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে, যা চলবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে সংশোধিত নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এর অনুমোদন পেলে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়ার কথা ছিল।
ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে তাতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সায় দেননি।
ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে তবে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের।
পূর্বের বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারত। তবে এবার প্রথম পর্যায়ে একবারই সুযোগ পাবে। আবেদনের সুযোগ একবার হওয়ায় আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগও আর পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। তবে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আরেকবার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কেউ বাদ পড়ে থাকলে বা কোনো কারণে নিশ্চয়ন না করলে বা কলেজ না পেলে সে-ও আবার আবেদন করতে পারবে।
সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরুর নির্দেশ
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তির আবেদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল। এতে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি এবং ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, অর্থাৎ শুরুর দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু হবে।
এ ছাড়া, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। যারা পুনর্নিরীক্ষার পর আবারও আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাস শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগির এটি চূড়ান্ত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নীতিমালাটি জারি করবে।
নীতিমালায় পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। এজন্য ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেগুলো মাথায় রেখে আমরা নীতিমালা করেছি। মন্ত্রণালয় এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জানা যায়, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত কয়েক বছর নানান কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয় ওই বছরের ১০ জুলাই। ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু চলতি বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এরপরও যে কোনোভাবে গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।
সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। তবে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফলে এবার মোট আসনের অর্ধেকের বেশি খালি থাকবে। যদিও তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে না।