এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ফেরাতে ফ্রান্সের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই দেশটির সব লিসেতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারের মুখপাত্র মড ব্রেজোঁ জানান, প্রথম দিন থেকেই নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানো, অতিরিক্ত ডিজিটাল ব্যবহার কমানো এবং পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। স্কুল ও কলেজে আগে থেকেই চালু থাকা মোবাইল নিয়ন্ত্রণের নীতি এবার লিসেতেও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
নতুন আইনে শুধু মোবাইল ফোন নয়, অন্যান্য সংযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে।
শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশের পর ফোন আলাদা করে রাখবে—এ জন্য লকার, যৌথ সংগ্রহের বাক্স বা ব্যক্তিগত লকযোগ্য পাউচ ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে, তা প্রতিটি লিসে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় নির্ধারণ করবে।
গত ১৪ আগস্ট ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ তরুণদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল করলেও লিসেতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের বিধান বহাল রাখে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আইনি বাধা নেই।
নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনসহ কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় প্রয়োজনীয় ব্যতিক্রম নির্ধারণ করতে পারবে।
শিক্ষামূলক প্রয়োজনে শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যাবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন, বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং কিছু প্রশাসনিক বা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কাজে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে। নিয়ম ভাঙলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফোন জব্দ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে দেশটির লিসেগুলোতে এই নীতি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা দিনে গড়ে ৫ ঘণ্টা ১৯ মিনিট স্ক্রিনে সময় কাটায়। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মনোযোগের ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণেই স্কুল থেকে লিসে পর্যন্ত শিক্ষাজীবনে ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।