এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যেখানে সাধারণ আলুর চপের দামও ১০ টাকা, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় মিলছে খাসির মাংসের চপ। অবিশ্বাস্য মনে হলেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মিনাজপুর বাজারে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হোসেন। তার দোকানে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ। স্বাদ ও সাশ্রয়ী দামের টানে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন ক্রেতারা।
জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মিনাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন পেশায় একটি স্কুলের দপ্তরি। স্কুলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে মিনাজপুর বাজারে বসান ছোট্ট খাবারের দোকান। সেখানে আলুর চপ, পেঁয়াজু ও সিঙ্গারার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার ৫ টাকার খাসির মাংসের চপ।
এত কম দামে খাসির মাংসের চপ কীভাবে বিক্রি করছেন— জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, এর পেছনে রয়েছে নিজেদের শ্রম। দোকানে কোনো কর্মচারী নেই। স্কুল শেষে তার দুই ছেলে কাজে সহযোগিতা করেন। তিনজনের সম্মিলিত শ্রমেই চলে পুরো ব্যবসা। ফলে কর্মচারীর বাড়তি খরচ না থাকায় কম দামে চপ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।
আলী হোসেন জানান, প্রতিদিন তার দোকানে ৬ থেকে ৭ কেজি খাসির মাংস, এক মণ আলু ও এক মণ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন দিনে বিক্রি হয় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পিস চপ। এর মধ্যে শুক্রবার থাকে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড়।
তিনি বলেন, শুধু কম দাম নয়, খাবারের স্বাদ, মান ও পরিচ্ছন্নতাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি জীবননগরের বিভিন্ন এলাকা, চুয়াডাঙ্গার অন্যান্য অঞ্চল এমনকি পাশের জেলা থেকেও অনেকে আসছেন তার দোকানের চপের স্বাদ নিতে।
রাসেল নামের এক যুবক বকরেন, আমি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রাম থেকে এসেছি এই খাসির মাংসের চপ খাবার জন্য। স্বাদেও যেমন অতুলনীয় এবং সাশ্রয়ী মূল্যে খাসির মাংসের চপ পাচ্ছি। এক কথায়, সন্ধ্যা নামলেই এই চপের দোকান আমাদের আড্ডার জায়গা হয়ে গেছে।
স্থানীয় আব্দুল মোমিন বলেন, এখন সবকিছুর দাম বেশি। অন্য জায়গায় আলুর চপই ১০ টাকা। সেখানে পাঁচ টাকায় খাসির মাংসের চপ পাওয়া যাচ্ছে এখানে। স্বাদও খুব ভালো।
আরেক ক্রেতা ইয়ারুল ইসলাম বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ এই চপ খেতে আসছেন। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, চপ ভাজার জন্য এখানে তাজা তেল ব্যবহার করা হয় সেটা একদম ফ্রেশ। যা আমার কাছে অন্যান্যদের তুলনায় স্বাস্থ্যসম্মত মনে হয়েছে।
মিনাজপুরের ইউপি সদস্য ইনামুজ্জামান টোটন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিকেল নামলেই দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর মানুষ এই চপ খেতে আসেন। বর্তমান বাজারে মাত্র ৫ টাকার খাসির মাংসের চপ এখন আলী হোসেনের দোকানের পরিচিতি হয়ে উঠেছে।