মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৩:২৫

নবম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

নবম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তারাও গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন-ভাতা পান। তারাও নবম পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন। এ মুহূর্তে এতটুকুই বলতে পারছি।’‎

এছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে, ২০২৩ সালে জুলাই মাসে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ৫ শতাংশ বা নূন্যতম ১ হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা ঘোষণা করে আলাদা আদেশ জারি করেছিল অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ।

‎‎এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করে এমন আলাদা আদেশ জারি করা হবে কি না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উপসচিব জামিলা শবনম।

‎‎বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে ১ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেতেন।

বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী।

মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সরকারি চাকরীজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। ‎দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করা হলো। এর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল।

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। এমপিও নীতিমালায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন স্কেলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বেতন স্কেল বলতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এবং সময়ে সময়ে সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলকে বোঝাবে।

এর আগে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কিন্তু সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।’

‎‎সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামোয় এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

‎‎নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) জুলাইয়ের মধ্যে মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে