এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠক শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো চার নতুন সদস্য এতে অংশ নেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বেশ কিছু জরুরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এই বৈঠকে ফ্যাসিবাদী সংগঠন আওয়ামী লীগের হঠাৎ তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া আসন ঠাকুরগাঁও-১ এ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
গুলশান কার্যালয়ের এই বৈঠক থেকে দলের কেন্দ্রীয়সহ সব কমিটির শূন্য হওয়া পদ পূরণে নিচের সারির নেতাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের আগে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে দলটি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ডেঙ্গু ও জ্বালানি পরিস্থিতি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল, ঝটিকা মিছিল নিয়ে চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন নয় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তবে দলটির নেতাদের অভিমত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এ অবস্থায় দেশে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, মূলত ডেঙ্গু ও জ্বালানি ইস্যু আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। এই দুই ইস্যু কিভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং দেশের মানুষকে স্বস্তিতে রাখা যায় তা নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি শূন্য হওয়া পদগুলো পূরণ করা হবে। এতে ত্যাগী অনেক নেতা মূল্যায়িত হবেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শেষে আগ্রহী প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাচাই করা হবে। পরবর্তীতে মনোনয়ন বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দলের কমিটিগুলোর মধ্যে অনেকে মারা গেছেন, অনেকে নানা কারণে দলের মধ্যে নেই কিংবা বহিষ্কৃত হয়েছেন। সেই শূন্য পদগুলোতে তাদের ঠিক নিচের পদধারীদের যেন পদোন্নতি দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্রের বিধানমতে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।
সরকার গঠনের পর শনিবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী কমিটির বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকের শুরুতে নতুন চার সদস্য রুহুল কবির রিজভী (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব), আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাঈল জবিউল্লাহকে স্বাগত জানানো হয়।
এছাড়া দীর্ঘ দিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে মির্জা আব্বাস বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর তারও সুস্থতা কামনা করা হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।