এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধে ব্যাংক হিসাব নম্বরের ভুল কমাতে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করছে সরকার। নতুন এ ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এভিএস চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এনএসসি সিস্টেম) স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।
এতদিন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও ব্যাংক হিসাব নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। ফলে আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হতো। কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো টাকা ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজও বাড়ত।
নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথমে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
দুই ক্ষেত্রে হবে হিসাব যাচাই
এভিএস ব্যবস্থাটি মূলত দুটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র কেনার পর কোনো বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একই প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আশা, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর এন্ট্রির হার প্রায় শূন্যে নেমে আসবে। কমবে ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি। ফলে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকের প্রাপ্য মুনাফা ও মূল টাকা সঠিক হিসাবধারীর ব্যাংক হিসাবে নিরাপদে পাঠানো আরও সহজ হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। তাদের মতে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নে এভিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিত প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে।