এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক ঋণ সহজ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হবে।
প্রান্তিক খামারিরা সমৃদ্ধ হলে প্রাণিসম্পদ খাত শক্তিশালী হবে। আর প্রাণিসম্পদ খাত শক্তিশালী হলে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ।
নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের প্রথম শর্ত হলো প্রাণীকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য দেওয়া। একটি প্রাণীকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য খাওয়াতে পারলে নিরাপদ মাংস, ডিম ও দুধ পাওয়া সম্ভব।
তাই জনগণের জন্য নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করতে পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
তিনি আরো বলেন, প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা, মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে খামারিদের টিকিয়ে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরো শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনায় জেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে খামারিদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রার সময়ে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদনব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে মুরগির বাচ্চা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ করেন খামারিরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ পরিচালক ড. বেগম শামছুন নাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।