রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৭:২৩

এবারের নতুন পে-স্কেলে যেভাবে হবে বেতন নির্ধারণ

এবারের নতুন পে-স্কেলে যেভাবে হবে বেতন নির্ধারণ

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের নিয়ম জানিয়েছে সরকার। নতুন স্কেলে একই গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন পেলেই সবার মূল বেতন একই হবে না; পুরোনো স্কেলে কর্মচারীর মূল বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য হিসাব করে নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

অর্থ্যাৎ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একজন কর্মচারী যে মূল বেতন পেতেন, তার ভিত্তিতেই ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন নির্ধারণের এ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা এর আগে কোনো কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, ভিন্ন কোনো গ্রেড বা স্কেল, যে নামেই অভিহিত হোক-যে বেতন পেয়ে আসছিলেন, ১ জুলাই থেকে তার জন্য সেই বর্তমান বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেল জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ প্রযোজ্য হবে।

সে হিসাবে কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন পর্যন্ত বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন স্কেলেও তার বেতন সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারিত হবে।

আর কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হলে প্রথমে তার বর্তমান মূল বেতন থেকে ওই স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিতে হবে। এরপর যে পার্থক্য পাওয়া যাবে, তা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে। যোগফলটি নতুন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেখানেই বেতন নির্ধারণ হবে। আর কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে এ নিয়মের একটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন এবং সেটিই তার বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ হয়, তাহলে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ হবে। উদাহরণ হিসেবে, ৯ হাজার ৩০০ টাকার পুরোনো স্কেলের বিপরীতে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ২১ হাজার ৯০০ টাকা হলে তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেতনস্কেল যদি ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত হয় এবং তার মূল বেতন হয় ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা, তাহলে প্রথমে ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা বাদ দিলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা।

এরপর নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করলে হয় ২৬ হাজার ২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। ফলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকায় ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ হবে।

তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল বেতনের ক্ষেত্রে সাধারণ পে-ফিক্সেশনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি, প্রেষণ, ছুটি ও সাময়িক বরখাস্ত থাকা কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিষয়েও আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীর বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করে পরে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। প্রেষণে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রেষণে না থাকলে নিজ দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকলে তার বর্তমান বেতনের ভিত্তিতে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে। তবে নতুন স্কেলের কারণে যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা তৈরি হবে, তা ছুটির সময়ের জন্য প্রাপ্য হবে না। সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে পুনর্বহাল হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীর বেতন শুধু পেনশন নির্ধারণের জন্য নতুন স্কেলে নির্ধারণ করা হবে। তবে ৩০ জুন অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হয়ে ১ জুলাই অবসরে যাওয়া কর্মচারী নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন না।

৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেড

নতুন বেতন স্কেলে একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এই উচ্চতর গ্রেডকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।

যেসব স্থায়ী কর্মচারীর ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ হয়নি, তারাও ১ জুলাই থেকে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর পদোন্নতি ছাড়া কর্মরত থাকলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এ সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। একই পদে একজন কর্মচারী এ সুবিধা সর্বোচ্চ দুইবার পাবেন।

আগের বেতনস্কেলগুলোর আওতায় একই পদে দুই বা ততোধিকবার সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে ওই পদে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন করে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

তবে ৩০ জুন ২০২৬-এর আগে একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারী পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এ ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ বা এর আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না।

পদোন্নতির সুযোগ নেই বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘ব্লকড’ ঘোষিত পদে কর্মরত কর্মচারীরা দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখ থেকে আট বছর পূর্ণ হলে নবম বছরে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পুরো চাকরিজীবনে একই পদে এ সুবিধা সর্বোচ্চ তিনবার পাওয়া যাবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন গ্রেডভেদে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের প্রতিটি গ্রেডের বিপরীতে ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে