এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষবো না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ১১ দলের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা প্রতারণা করতে পারবো না। সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বিশ্রাম নেবো না। আমরা নেমেছি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। সেই অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।
রংপুরে ১১ দলের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে কোনো সংবিধান মেনে চব্বিশের গণবিপ্লব হয় নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়েই এই ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়েছে। যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও নাই, কোনো সরকারও নাই। সুতরাং মানতে হলে সবটা মানতে হবে। আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জামায়াত নেতা বলেন, আমরা আগাগোড়া বলেছিলাম, উনি অন্তত একবার বলেছিলেন। একবার আর দশবার বলে কোনো কথা নাই। জাতীয় নেতার মুখ থেকে জনগণের জন্য যে আহ্বান আসবে, জাতির প্রতি এটাই হচ্ছে তার অঙ্গীকার।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি কি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন? তিনি গণভোটের রায় মানেন নাই। তিনি অগ্রাহ্য করেছেন। অবশ্য সাহস করে তারা বলতে পারে না যে, আমরা গণভোট মানবো না। ইনাইয়া-বিনাইয়া বলে যে সংবিধানে গণভোট নাই।
১১ দলীয় জোটের ৮ দাবি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কসম, একটা দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। এই দাবিগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি। ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, লালমনিরহাটে বাড়ি। তিনি বর্তমানে একজন মাননীয় মন্ত্রী। নির্বাচনের আগে 'জাগো বাহে কোনঠে, তিস্তা বাঁচাও' এই আওয়াজ তিনি দিয়েছিলেন। সংসদের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী তিনি পরিষ্কারভাবে বললেন, ‘যেই নামেই হোক তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।’ সাত মাস চলে গেল, নড়াচড়া যে কিছু বুঝি না। কোন দিক থেকে কোন পানিপড়া খাইলেন? এখন যে আপনাদের কণ্ঠে অত জোর দেখি না। জনগণকে বারবার ধোকা দেওয়া ঠিক হবে না।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেই মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাদের নির্বাচিত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছিলাম গোটা উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবো। নদীগুলোর জীবন আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবকিছু সহ্য করে দেশের স্বার্থে এই নির্বাচনের অনিয়মের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম যে, দেশটা শান্তির দিকে আসুক। আর উনারা তো দফায় দফায় জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছে। কিন্তু আজ খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার, সংসদে গিয়ে এখন সব ভুলে গেছে। তারা উল্টা পথে চলছে, যেই পথে হাসিনা চলে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। আমরা স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি সেই পথেই, সেই পথ ধরেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে পরিণতি একই হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, রংপুরে মানুষ গ্যাস পায় না। কৃষকরা সার পায় না সন্তানরা হাতে কাজ পায় না। তবে একটি দলের লোক কাজ পায়। এই কাজ হলো চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজি সারাদেশে আছে। চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতি। এই চাঁদাবাজদের কারণে দ্রব্যমূল্য তিনগুণ, চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাঁদাবাজদের কারণে মানুষের জীবনও চলে যাচ্ছে।
জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ করে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট। জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।