এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবলদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিশেষ ভাতা, কিট ভাতা, ধোলাই ও চুল কাটা ভাতা, সশস্ত্র শাখা ভাতা, খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, মোবাইল ও যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ এ কনস্টেবলদের এসব ভাতা ও সুবিধার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ শাখা ও জেলা এসবির কনস্টেবল
বিশেষ শাখা ও জেলা এসবিতে কর্মরত কনস্টেবলরা মাসিক ৫০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন। একই হারে গার্ড কনস্টেবলরাও ৫০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত কনস্টেবলদের জন্য মাসিক ৬৬ টাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যালাউয়েন্স নির্ধারণ করা হয়েছে। সিআইডি ও পিবিআইতে কর্মরত কনস্টেবলরা মাসে ৫০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন।
টেলিকম ভাতা ১১০ টাকা
টেলিকম শাখায় কর্মরত কনস্টেবলরা মাসে ১১০ টাকা টেলিকম অ্যালাউয়েন্স পাবেন। মাউন্টেড পুলিশে কনস্টেবলদের জন্য ৫০ টাকা মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স নির্ধারণ করা হয়েছে। পিবিএক্সে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবলরা মাসে ৫০ টাকা পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স পাবেন।
কিট ভাতা
পুলিশের কনস্টেবলদের জন্য কিট ভাতারও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসবি, ডিএসবি, সিআইডি ও ডিটিএসের কনস্টেবলরা প্রারম্ভিক কিট ভাতা হিসেবে ১ হাজার ৩৮৬ টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন কিট ভাতা হিসেবে ৭৮৭ টাকা পাবেন।
তবে প্রারম্ভিক কিট ভাতা চাকরি জীবনে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী একবারই পাবেন। আগে এ ভাতা গ্রহণ করা থাকলে আবার তা পাওয়া যাবে না। পদোন্নতির কারণে উচ্চতর প্রারম্ভিক ভাতা প্রাপ্য হলে আগের ও নতুন হারের পার্থক্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ধোলাই ও চুল কাটার ভাতা ১০০ টাকা
সকল ইউনিটের এসআই/সার্জেন্ট থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যদের জন্য মাসে ১০০ টাকা ধোলাই ও চুল কাটা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সশস্ত্র শাখায় কর্মরত কনস্টেবলরা মাসে ১৭ টাকা সশস্ত্র শাখা ভাতা পাবেন।
ড্রাইভার কনস্টেবলদের জন্য ড্রাইভিং অ্যালাউয়েন্স ৬৬ টাকা, ক্লিনার কনস্টেবলদের জন্য ক্লিনার অ্যালাউয়েন্স ৩৩ টাকা, আর্মরার কনস্টেবলদের জন্য ৩৩ টাকা এবং বিউগলার কনস্টেবলদের জন্য ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নার্সিং কনস্টেবলরা পাবেন ৩৩ টাকা নার্সিং অ্যালাউয়েন্স।
খোরাকি ভাতা ৫৬১ টাকা
সিঙ্গেল রেশনপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য, এপিবিএন ছাড়া, জনপ্রতি মাসে ৫৬১ টাকা দৈনিক/খোরাকি ভাতা দেওয়া হবে।
ট্রাফিক কনস্টেবলদের ভাতা ৩৯০০ টাকা
বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩ হাজার ৯০০ টাকা ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীরা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান হারে মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৫০ টাকা ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স পাবেন।
বাড়িভাড়া পাবেন মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ
কনস্টেবলদের বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিবাহিত কনস্টেবল, যাদের সরকারি বিবাহিত বাসস্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এবং যারা ব্যারাকেও থাকেন না, তারা গ্রেড ও কর্মস্থল অনুযায়ী মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া পাবেন।
গ্রেড-২০ এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬ এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কনস্টেবলদের ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, নির্ধারিত অন্যান্য বড় শহর ও পৌর এলাকায় ৫০ শতাংশ, অন্যান্য এলাকায় ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।
গ্রেড-১৫ এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০ এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বাড়িভাড়া হবে যথাক্রমে ৫০, ৪৫ ও ৪০ শতাংশ।
যেসব বিবাহিত কনস্টেবলকে সরকারি বাসস্থান দেওয়া হয়নি, কিন্তু তারা ব্যারাকে থাকেন, তারা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন। অবিবাহিত কনস্টেবলরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন।
তবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কনস্টেবলরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়িভাড়া পাচ্ছিলেন, সেই হারেই বাড়িভাড়া পাবেন।
চিকিৎসা ভাতা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা
কনস্টেবলসহ সরকারি কর্মচারীরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছর ১ দিন বয়স থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত এ ভাতা হবে মাসে ৪ হাজার টাকা।
নতুন পে-স্কেল: পুলিশে কোন ভাতা কে কত পাবেন
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা
কনস্টেবলরা সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা পাবেন। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বয়সের সনদ দাখিল সাপেক্ষে সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ ভাতা প্রাপ্য হবে।
টিফিন ও যাতায়াত ভাতা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কর্মস্থল থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেলে টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হবে না।
একই গ্রেডের কর্মচারীর কর্মস্থল সিটি করপোরেশন এলাকায় হলে মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পাবেন।
মোবাইল ভাতা
৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন। ফলে কনস্টেবলরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।
এছাড়া পার্বত্য জেলায় কর্মরত হলে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতাও প্রযোজ্য থাকবে। তবে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী এ ভাতা মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ অনুযায়ী তা কার্যকর হবে।