সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৭:১৩

এখন বোয়িং কিনছি, প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো বিমান কিনব: হুমায়ুন কবির

এখন বোয়িং কিনছি, প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো বিমান কিনব: হুমায়ুন কবির

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি- স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ অভ্যন্তরীণ পলিসি নিয়ে কথা বলেছেন যা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী কিছু অভ্যন্তরীণ পলিসির কথা বলেছেন। তারপর তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলেছেন এবং পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গাদের নিয়েও কথা বলেছেন। ’

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি ছিল প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এবারের অধিবেশন দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। চারদিনের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে পৌঁছান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। এ সময় তিনি দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমারে সহিংসতার অবসান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা এবং সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি ব্রাজিল ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব ও সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘে এআই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কিনা সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, মেটার সাথে বৈঠক করেছিলেন। এখানে আলাপ আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজে এর প্রভাব ও তারা তুলে ধরছেন একসঙ্গে এ নিয়ে কাজ করার বিষয়টি।

এসময়, ১১ টি বোয়িং নিয়ে সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে খোলা পরিবেশে চুক্তি হয়েছে। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদামতো আমরা বোয়িং কিনব। বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উই নিড মিক্সড ফ্লিট( মিশ্র বহর)। এখন বোয়িং কিনছি। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো বিমান কিনব।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।