এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আজ ১ অক্টোবর। মাসের এমন শুরুর দিনে বা শুরুর দিনগুলোতে সরকারি চাকরিজীবীরা বারবার চেক করেন মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন।
কখন ব্যাংকের মেসেজ আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকেন সবাই। তবে এবারের অপেক্ষা একটু ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা করেছে সরকার। সেই বাড়তি বেতনের মেসেজের অপেক্ষায় লাখো সরকারি কর্মচারী।
১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন বেতন কাঠামোতে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন।
অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হলেও নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা জুলাই থেকে ধরা হবে। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কোন মাস থেকে তারা বাড়তি বেতন পাবেন, বকেয়া বেতন কিভাবে পাবেন—এসব বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের বেতনে নতুন পে স্কেলে বৃদ্ধি বেতন যুক্ত হচ্ছে না। অর্থাৎ এবার বাড়তি টাকা পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে অক্টোরের বেতন হবে নতুন পে স্কেলে। যা নভেম্বরের শুরুতে পাবেন তারা।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের বাড়তি বেতন হাতে পাওয়ার আগে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা।
কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে প্রক্রিয়াটি আটকে যেতে পারে। এ কারণে ইতিমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বিভাগওয়ারিভাবে ৫ থেকে ২০ অক্টোবর পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে
নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের এরিয়ার (বকেয়া) একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া হিসাব করা হবে। কোনো চাকরিজীবীর তথ্য অনলাইনে দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে যা ছিল
নতুন বেতনকাঠামোতে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। যা গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে।
গত ১ জুলাই থেকে যেহেতু নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছে, তাই বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বেতন কাঠামোর অন্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।