শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩:২৪

গতিপথ পরিবর্তন করায় তাজমীন অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে

গতিপথ পরিবর্তন করায় তাজমীন অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধ'র্ষ'ণে বাধা দেওয়ায় ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) তাকে শ্বাসরোধে হ'ত্যা করেছেন। 

এর আগে গতিপথ পরিবর্তন করায় তাজমীন অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাকে ধানখেত থেকে দৌড়ে আটক করেন সুমন। এ সময় জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘাতকের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায় তাজমীন। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকার ধানখেতের আইলের পাশে তাজমীনের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার বাবা এসে লাশটি জান্নাতুল তাজমীনের বলে শনাক্ত করেন।

জান্নাতুল তাজমীন রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমীন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

পুলিশের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ ‘তিশা বাস কাউন্টার’-এর সামনে থেকে নিজ বাসা রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য একটি অটোরিকশা ভাড়া করে। ৩০০ টাকা ভাড়ায় চালক সুমন মিয়া (৩৫) তাজমীনকে নিয়ে রওয়ানা হয়। পথে তাকে ১০০ টাকার কলা ও রুটি কিনে দেয়। তবে চালক সুমন সোজা রেসকোর্সে না গিয়ে অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে একটু সামনে গিয়ে চাঁদপুরগামী সড়কে নিয়ে যান। পথ পরিবর্তন দেখে তাজমীন ভয় পেয়ে যায় এবং সুমনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করে। নিরুপায় হয়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে নির্জন স্থানে সুমন তাকে ধরে ফেলে।

এরপর সুমন মিয়া তাকে জোরপূর্বক ধ'র্ষ'ণ করেন। তাজমীন ধস্তাধস্তি ও চিৎকার শুরু করলে সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। এতে তাজমীন নিস্তেজ হয়ে পড়লে সুমন তাকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।  

হত্যাকাণ্ডের পর তাজমীনের ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ, আইফোন এবং স্কুলব্যাগ নিয়ে নেন। ব্যাগটি পার্শ্ববর্তী ধানখেতে ফেলে দিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় চেপে স্থান ত্যাগ করেন সুমন। পরে পাশের কাচিকাটা মসজিদের পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে আইফোনটি সেখানে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে আত্মগোপনে চলে যান।  

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

সুমনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।