এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলে আদালতের কাছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইতে হলে দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রাথমিক প্রমাণ দেখাতে হবে। শুধু জমির দখলে থাকা, দলিল থাকার দাবি করা কিংবা নামজারির কথা বললেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি এক রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় করা সিভিল রিভিশন নম্বর ৩৭৭৪/২০১৩ খারিজ করে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের একক বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেওয়া হয়, যা ১৮ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. ইসহাক আলী (মৃত) ও তার উত্তরাধিকারীদের দাবি, ১৯৪৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একটি দলিলের মাধ্যমে তারা জমিটি কেনেন এবং পরে ভোগদখল করেন। তাদের অভিযোগ, জমির খতিয়ানে ভুলভাবে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১৯৭৭ সালে একটি স্বত্ব মামলায় রায় ও ডিক্রি পাওয়ার ভিত্তিতেও তারা জমিটির মালিকানা দাবি করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরে তাদের নামজারি বাতিল করা হয় এবং জমিটি অন্যদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় তারা জমির ওপর নিজেদের অধিকার রক্ষায় মামলা করেন এবং জমি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ ঠেকাতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান।
অন্যদিকে, সরকারি পক্ষের দাবি, জমিটি অর্পিত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। জমির মালিকানা প্রমাণে বাদীপক্ষের দেওয়া দলিল এবং আগের মামলার রায় ও ডিক্রির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।
প্রথমে বিচারিক আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। এরপর অতিরিক্ত জেলা জজ মামলাটি ফেরত পাঠিয়ে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির আওতায় পড়ে কি না এবং এ অবস্থায় মূল মামলাটি আইন অনুযায়ী চলতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান বাদীপক্ষ।
হাইকোর্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেন, বাদীপক্ষের দাবির অন্যতম ভিত্তি ছিল ১৯৪৪ সালের একটি অনিবন্ধিত দলিল। এ ছাড়া ১৯৭৭ সালের স্বত্ব মামলার রায় ও ডিক্রির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার রেজিস্টারের সঙ্গে আদালতে দেওয়া রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপির মিল পাওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষ জমির নামজারি সংশোধন এবং সংশোধিত এসএ খতিয়ানের কথা বললেও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বা নামজারির নথি আদালতে জমা দিতে পারেননি। ফলে জমিটির মালিকানা দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করেন হাইকোর্ট।
আদালত আরও বলেন, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে বাদীর দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। মূল মামলাটি আইন অনুযায়ী করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
এ সময় আদালত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ৭ ও ১৩ ধারাও আলোচনা করেন। তবে মূল মামলার প্রয়োজনীয় আরজি হাইকোর্টে না থাকায় মামলাটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি আদালত।
বাদীপক্ষ জমির মালিকানা দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো আইনগত ভুলও পাওয়া যায়নি বলে জানান হাইকোর্ট। পরে সিভিল রিভিশনের রুল খারিজ করে আগের অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহার করেন আদালত।
একই সঙ্গে মামলাটি তখনও নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন নিম্ন আদালতকে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে প্রথমে দেখাতে হবে, তার দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। দলিল, আগের মামলার রায়, খতিয়ান ও নামজারির নথিতে অসংগতি থাকলে তা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।