রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩:২৩

এক ছেলেকে কবরে শায়িত করে আরেক ছেলের আইসিইউর সামনে বাবা-মা

এক ছেলেকে কবরে শায়িত করে আরেক ছেলের আইসিইউর সামনে বাবা-মা

এমটিনিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ আরাফাত (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে গত শুক্রবার। একই রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আবু বক্করও (১০ মাস) এখন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

এদিকে এক ছেলেকে কবরে শায়িত করে আরেক ছেলেকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা মোহাম্মদ কবির।

রোববার (৮ নভেম্বর) তাকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউর সামনে দিশাহারা অবস্থায় দেখা গেছে।

জানা গেছে, কবির আহমদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি নগরীর হিলভিউ এলাকার ১ নম্বর সড়কে ভাড়া বাসায় থাকেন। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন তিনি।

কবির আহমদ ও আমেনা বেগম দম্পতির দুই সন্তান—আরাফাত ও বক্কর। দুই সন্তানকে নিয়ে ভালোই চলছিল তাদের সংসার; কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গুতে এক সন্তানের মৃত্যু, আরেক সন্তান লাইফ সাপোর্টে থাকার এমন ঘটনায় সবকিছু যেন উলট-পালট হয়ে গেছে। তারা সম্পূর্ণ দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, প্রায় ১৫-২০ দিন আগে বড় ছেলে আরাফাতের জ্বর, বমি ও কাশি শুরু হয়। অসুস্থতা বাড়তে থাকলে তাকে প্রথমে চট্টগ্রামের সাউদার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা চলে। পরে নেওয়া হয় আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালটির আইসিইউতে রাখতে হয়। সেই হাসপাতালটিতে কয়েক দিন চিকিৎসার পরও আরাফাতের অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে।

চিকিৎসার বিপুল খরচ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান কবির। সেখানেও তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। হাম, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আরাফাতের ফুসফুসের পাশাপাশি যকৃতেও জটিলতা দেখা দিয়েছিল। শুক্রবার সেখানে মারা যায় আরাফাত। ওই দিন সন্ধ্যায় বড় ছেলেকে দাফন করে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান ছোট ছেলের কাছে। চিকিৎসকরা কোনো আশা দিতে পারছেন না।

মোহাম্মদ কবির জানান, একটি ছেলে পরপারে চলে গেছে। আরেক ছেলেকে নিয়ে অথৈ সাগরে ভাসছি। চিকিৎসকরা কোনো আশা দিতে পারছেন না। ছেলের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কবিরের স্ত্রী আমেনা। বারবার বড় ছেলেকে খুঁজছেন। সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। পানি ছাড়া মুখে কিছুই তুলছেন না। এখন কী করব জানি না।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।