স্পোর্টস ডেস্ক : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসির ‘দ্বিমুখী’ নীতির কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে দেশটির সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভাতেও একই কথা বলেছি। আপনার দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে একটি দেশ যখন খুশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং অন্য একটি দেশের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা করা হয়।’
গত ২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনের ওপর ভোটাভুটি হয়। সেখানে পাকিস্তান বাদে সব দেশই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেয়। এই ভোটাভুটির ভিত্তিতেই আইসিসি জানিয়ে দেয়, খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে বাংলাদেশকে। তবে নাকভি মনে করেন, আইসিসির এই আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি যে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে তাদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত। তারা (ক্রিকেটের) একটি প্রধান অংশীদার এবং এই অবিচার করা উচিত নয়।’
পাকিস্তানও কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মহসিন নাকভি জানান, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সরকারের হাতে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর (সৌদি আরব সফর থেকে) ফেরার অপেক্ষা করছি।’ আইসিসির ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে নাকভি আরও বলেন, ‘একটি দেশ অন্য দেশকে নির্দেশ দিতে পারে না। আর যদি এই নির্দেশের চেষ্টা করা হয়, তবে পাকিস্তানের অবশ্যই নিজস্ব অবস্থান রয়েছে।’ পাকিস্তানও যদি শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে আইসিসির কাছে কোনো ‘প্ল্যান বি’ আছে কি না-এমন প্রশ্নে নাকভি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আগে সিদ্ধান্ত আসতে দিন; আমাদের কাছে প্ল্যান এ, বি, সি, ডি সবই আছে।’