স্পোর্টস ডেস্ক : লা ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু শিরোপার লড়াইই ছিল না, বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ হিসেবেও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
মার্চের ফিফা উইন্ডোতে স্পেনের বিপক্ষে লা ফিনালিসিমায় মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে গুয়াতেমালার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে, যা তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাকি দলগুলো অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
ব্রাজিল এবং কলম্বিয়া চলতি মাসে খেলবে ফ্রান্স(বর্তমান বিশ্বকাপ রানার্সআপ) এবং ক্রোয়েশিয়ার (২০১৮ বিশ্বকাপ রানার্সআপ) মতো দলের বিপক্ষে।
এদিকে উরুগুয়ে মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকান জায়ান্ট আলজেরিয়ার। এদের মধ্যে আলজেরিয়া আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপ প্রতিপক্ষও।
এই ইউরোপীয় দলগুলো দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান প্রতিপক্ষ, কারণ তারা বিশ্বকাপের আগে উচ্চমানের অভিজ্ঞতা দেয়। যদিও কেউ কেউ বড় হারের ঝুঁকি এড়াতে এমন প্রতিপক্ষ এড়াতে চায়, বাস্তবে এই মানের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকায় খুব কমই পাওয়া যায়।
আরেক লাতিন দল ইকুয়েডর খেলবে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো এবং বিশ্বকাপের তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। প্যারাগুয়েও খেলবে মরক্কো এবং গ্রিসের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপ প্লে-অফ খেলতে যাওয়া বলিভিয়া প্রথমে সুরিনামের বিপক্ষে খেলবে। এরপর প্লে-অফে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইরাক।
বাস্তবতা হলো, এই হঠাৎ পরিবর্তন আর্জেন্টিনার পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে। স্বল্প সময়ে নতুন প্রতিপক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, কারণ বেশিরভাগ দল আগেই ম্যাচ নির্ধারণ করে ফেলেছিল। ফলে গুয়াতেমালাই একমাত্র সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে।
এর ফলে এবারই প্রথম এমন হতে যাচ্ছে যে, পুরো বিশ্বকাপ চক্রে আর্জেন্টিনা কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে না খেলেই বিশ্বকাপে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ২০২২ এর বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা খেলেছিল জার্মানি (২০১৯-এ ২-২ ড্র), ইতালি (২০২২ ফাইনালিসিমায় ৩-০ জয়) এবং এস্তোনিয়ার (২০২২-এ ৫-০ জয়) বিপক্ষে।
আর্জেন্টিনা দলের দেশের মাটিতে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচটি হবে ৩১ মার্চ। গুয়াতেমালার বিপক্ষে ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু বোকা জুনিয়র্সের ঘরের মাঠ লা বোম্বোনেরা।