রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬:০৭

এবার কী সেই ‘অভিশাপ’ ঘুচাতে পারবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল?

এবার কী সেই ‘অভিশাপ’ ঘুচাতে পারবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল?

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা। তবে সর্বশেষ দুই যুগ আগে স্বপ্নের এই ট্রফির ছোঁয়া পেয়েছিল তারা। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। এই সময়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল ও ইউরোপীয় দলগুলোর মধ্যকার নকআউট লড়াই মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাস।

২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে সর্বশেষ বিশ্বজয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে আর কোনো ইউরোপীয় দলকে হারাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে চলা এই ‘ইউরোপীয় অভিশাপ’ এবার কাটাতে চায় সেলেসাওরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ সেই ইউরোপীয় জায়ান্ট নরওয়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিল যতবারই বিদায় নিয়েছে; তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ ছিল ইউরোপের কোনো না কোনো দেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে ২০০৬ সালের ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৮ সালে বেলজিয়াম ও ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়া এবং ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এই পরাজয়ের ধারাবাহিকতা ব্রাজিলের জন্য এখন একটি বড় মানসিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবেও নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, ইতিহাসে এই দলটির বিপক্ষে আজও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। ১৯৮৭ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়ার এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ২টি করে হার ও ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। তাই রোববার রাতের ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য কেবল শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং নিজেদের দীর্ঘ খরা কাটানোর এক মহাযুদ্ধ।

ব্রাজিলের এই কঠিন মিশনের দায়িত্ব এখন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির কাঁধে। ক্লাব ফুটবলে ইউরোপের কঠিন প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে নকআউট লড়াইয়ে তার সাফল্যের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। সেই অভিজ্ঞতাই এখন জাতীয় দলে কাজে লাগাতে চান এই কোচ। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ থেকে দল ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। এখন আমরা অনেক বেশি সংগঠিত ও দৃঢ়। নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই হলো রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রাখা।’

সাম্প্রতিক ইতিহাস হতাশার হলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে সামগ্রিক রেকর্ডে ব্রাজিল বেশ এগিয়ে। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা এখন পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। হেরেছে ৯টিতে এবং ড্র করেছে ৫টি। তবে গত দুই দশকের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া সেলেসাওরা। নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি কি তবে ব্রাজিলের জন্য নতুন ভোরের সূচনা হবে? নাকি ইউরোপের সেই পুরোনো অভিশাপ আবারও বাধা হয়ে দাঁড়াবে সেলেসাওদের পথে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান সমর্থক।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেলেসাও শিবিরে সবচেয়ে বড় খবর বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনহার দলে ফেরা। যদিওবা অনুশীলনে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি ফিট নন বলেই জানিয়েছে ব্রাজিলের গণমাধ্যম। ফলে তাকে নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে সেলেসাও শিবিরে। তবে স্বস্তির খবরের পাশাপাশি আছে বড় ধাক্কাও। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেই কার্যত ছিটকে গেছেন মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে