স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অরের রেসে দারুণভাবে টিকে আছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। গত বছরও সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা এই উইঙ্গার প্যারিসে উদযাপনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এবারও পুরস্কার ঘোষণার আগেই রাজকীয় উদযাপনের সার্বিক আয়োজন সেরে রাখছেন তিনি।
স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার নিজের ব্যালন ডি’অর জয়ের জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন ইয়ামাল। বর্ষসেরা ফুটবলারের ট্রফি হাতে উঠলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমকালো উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তার; যার পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় করতেই কৃপণতা করতে চান না এই তরুণ তারকা।
আরেক স্প্যানিশ মাধ্যম ‘কাদেনা কোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ (প্রাইভেট জেটে) চার্টার করেছেন ইয়ামাল।
এই সফরে তার সফরসঙ্গী হচ্ছেন মা শেইলা এবানা, বাবা মুনির নাসরাউই, বান্ধবী ইনেস গার্সিয়া, পরিবারের অন্য সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব এবং তার নিজস্ব অফিশিয়াল ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যরা।
ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর উদ্যোগে এবার ৭০তমবারের মতো বসতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের জমকালো আসর। ঐতিহ্যবাহী এই মাইলফলক আসরে ১৯৫৬ সালের প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী ইংলিশ কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবার প্যারিসের বদলে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে লন্ডনের ঐতিহাসিক ‘লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটার’। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
গত মৌসুমে বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে স্বপ্নের মতো সময় কাটিয়েছেন ইয়ামাল। বার্সার হয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি জেতেন লা লিগা ও সুপারকোপা।
জাতীয় দলের হয়ে অল্প বয়সেই বিশ্বমঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। অবশ্য ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফির লড়াইয়ে ইয়ামালের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
গত বছরও ব্যালন ডি’অর জিতলে প্যারিসে উদ্যাপনের পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রেখেছিলেন ইয়ামাল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জেতেন উসমান দেম্বেলে। ফলে থিয়েটার দ্যু শাতলে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের রাতেই ফিরতে হয়েছিল ইয়ামালকে। তবে তিনি সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলার হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ কোপা ট্রফি জিতেছিলেন।