এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে বসতঘরে। আর থাকার জায়গা না পেয়ে মা আনোয়ারা বেগম (৭৫) ঘুরে বেড়ান পথেঘাটে।
শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে। একসময় যে বাড়িতে সবাই মিলেমিশে থাকতেন, আজ সেই বাড়িটাই যেন তার কাছে বড্ড অচেনা। একরাশ হতাশা নিয়ে দিন কাটছে এই অসহায় নারীর।
আনোয়ারা বেগম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত ছদুর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ছদুর হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন তিনি। পরে ছেলের বিয়ে হলে সংসারে নতুন সদস্য আসেন। ধীরে ধীরে ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম নিজেই সংসার ছেড়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে শুরু করেন।
থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় পরে স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নেন। এখনো রাত কাটান সেখানে। এদিকে ছেলে প্রবাসে গিয়েও সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফলে পরিবারটিও এখন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছেলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, সেখানে আমি এক ধরনের বোঝা। একটি ঘরে সবাই একসঙ্গে থাকাও সম্ভব হচ্ছিল না, তাই নিজেই বের হয়ে গেছি।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে চেয়ে খাই। কখনো খেতে পারি, কখনো উপোস থাকতে হয়। সরকারি সহায়তা শুধু বয়স্ক ভাতা পাই। স্বামীর ভিটায় যদি একটি ঘর হতো তাহলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘আনোয়ারা বেগমের জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে তার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতে পারে। বর্তমানে তিনি যে পরিত্যক্ত নড়বড়ে ঘরে থাকছেন সেখানে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’