শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬, ০৪:৩০:৪৫

ছোট ভাইকে হত্যা করে ভিডিও কলে পরিবারকে দেখাল বড় ভাই

ছোট ভাইকে হত্যা করে ভিডিও কলে পরিবারকে দেখাল বড় ভাই

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দুই ইতালিপ্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ছোট ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালি পুলিশ।

সরেজমিনে টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড়।  চলছে আহাজারি।

নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফকির হুমায়ুন ও নিহত নয়ন ফকির দুই ভাই এবং তাদের দিলারা আক্তার নামে একমাত্র বোন রয়েছেন। হুমায়ূন প্রথমে লিবিয়া এবং পরে প্রায় ছয় বছর আগে ইতালি যান। চার বছর আগে তিনি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ছোট ভাই নয়নকেও ইতালিতে নিয়ে যান। বিনিময়ে নয়ন বিভিন্ন সময়ে হুমায়ুনকে মোট ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও হুমায়ুন বাবা-মায়ের ভরণপোষণ বাবদ প্রদত্ত ১৬ লাখ টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ আরও ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন। নয়ন সেই টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন।

তবে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে হুমায়ুনের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। তিনি ছুটিতে এসে তার বেয়াইনকে (চাচাতো ভাইয়ের শ্যালিকা) বিয়ে করে ইতালি ফিরে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার তা মেনে নিতে অস্বীকার করে। হুমায়ুনের বাবা দেলোয়ার হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলার খবর পেয়ে রাগে হুমায়ুনের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে হুমায়ুন পরিবারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইতালির সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়) নয়ন হুমায়ুনের বাড়ির নিচে সাইকেলের ব্যাটারি চার্জ দিতে যান। সে সময় আগে থেকেই সেখানে ছুরি নিয়ে অপেক্ষায় থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে প্রথমে পিঠে এবং পরে মাথায় আঘাত করে নয়নকে হত্যা করেন। হত্যার পরপরই হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের নয়নের মরদেহ দেখান এবং খুনের কথা স্বীকার করেন। ঘটনার পর ইতালি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

নিহতের বোন দিলারা আক্তার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, হুমায়ুন ১৩ লাখ টাকা খরচ করে নয়নকে ইতালি নিয়েছিল, অথচ নয়ন তাকে ২০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। তারপরও আরও ৮ লাখ চাইছিল। নয়ন সেটাও দিতে রাজি ছিল। শুধু দ্বিতীয় বিয়ে ও পারিবারিক বিরোধের জেরে সে আমার ভাইকে হত্যা করল। আমরা হুমায়ুনের ফাঁসি চাই।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন জানান, তিন বছর আগে টেলিফোনে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দেড় বছর বয়সী আরাফ নামে একটি শিশুপুত্র রয়েছে। বিয়ের আগে থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে তায়েবার (বেয়াইন) সম্পর্ক ছিল। ছুটিতে এসে হুমায়ুন তাকে (আমেনাকে) বাড়ি ছেড়ে যেতে চাপ দিতে থাকেন এবং কাবিনের ৫ লাখ টাকা ও সন্তানের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে ১৫ দিনের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। অসহায় হয়ে তিনি সেই শর্তে রাজি হয়েছিলেন।

হুমায়ুনের মা বিউটি বেগম বলেন, নয়ন হুমায়ুনকে যা দিয়েছে, তা দেওয়া টাকার চেয়ে বেশি। তারপরও হুমায়ুন আরও টাকা চাইছিল। দ্বিতীয় বিয়ের কারণে আমরা ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিলে সে ক্ষেপে গিয়ে ছুরি দিয়ে নয়নকে কুপিয়ে মেরে ফেলে।

টংগিবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে হুমায়ুন নিজেই থানায় ফোন করে নয়নের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা পাওনার অভিযোগ জানান এবং ব্যবস্থা নিতে বলেন। থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ ছাড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে হুমায়ুন তার প্রথম স্ত্রীর মাধ্যমে পরিবারের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করান।

টংগিবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে