এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কই গেছিলি বলতেই পেটে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নামের এক যুবকের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেন নূর মোহাম্মদ। এতে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে পৌর শহরের তেরীবাজার এলাকায় এ ঘটনার ঘটে। নিহত কেলিস ওই এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টায় তেরীবাজার এলাকায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রেরণ করে। পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পুলিশ রাতেই দুর্গাপুরের বাসা থেকে নূর মোহাম্মদের মা নূরনাহার ও তার ভগিনীপতি মাজেদুলকে গ্রেফতার করে। এরপর পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযান চালিয়ে ওই দিন ভোররাতে নেত্রকোনার শহরের মালনী এলাকা থেকে ঘাতক নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে এবং এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে।
ঘাতক নূর মোহাম্মদ তেরীবাজার এলাকার মুজিবুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রস্রাব করতে বাসার সামনে বের হয়েছিল। এ সময় নূর মোহাম্মদ বাজার থেকে আসছিলেন। পরে আমার স্বামী তার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করছিল কিরে কই গেছিলি। ওই সময় কাঁধে হাত দিলো কেন এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কোমর থেকে ছুরি বের করে আমার স্বামীর পেটে ঢুকিয়ে দেয়।
আমার স্বামী চিৎকার করলে আমরা ও আশপাশের মানুষ গিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই; কিন্তু হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হলে পরে সেখানে নেওয়ার পথেই মারা যায়। এখন আমার দুই সন্তান এতিম হয়ে গেছে, আমি সাগরে পড়ে গেছি। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাহমুদা আক্তার ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতা নূর মোহাম্মদসহ ২ জনকে গ্রেফতার করি। অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।