শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২:৩১

লুৎফুজ্জামানকে পরপর ৬ গুলি

লুৎফুজ্জামানকে পরপর ৬ গুলি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে মোট ৬টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫টি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।

শুক্রবার নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তের সময় আটকে থাকা ওই বুলেটটি বের করা হয়।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত সাংবাদিক আলিফের বুকের অংশে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের দিকে মাংসপেশির ভেতরে আটকে ছিল।

অপর তিনটি গুলির আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসক জানান, একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া ঘেঁষে এবং অন্য একটি গুলি ডান কাঁধের চামড়া ভেদ করে চলে যায়।

ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আলিফকে লক্ষ্য করে একেবারে সামনে থেকেই খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালায় দুই অস্ত্রধারী যুবক।

লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি ‘চ্যানেল রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে সীমান্ত এলাকার মাদক, চোরাচালান, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আলিফের মাথা, ঘাড় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্পষ্ট ক্ষত রয়েছে। রাতে গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করাও সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন আলিফ। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তখন তার এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তাকেও অস্ত্রের মুখে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।