মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭:১১

হাটজুড়ে এখন শুধুই আম আর আম! দাম কমে কেজি কত হলো জানেন?

হাটজুড়ে এখন শুধুই আম আর আম! দাম কমে কেজি কত হলো জানেন?

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজশাহীর বৃহৎ আমের মোকাম বানেশ্বর হাট আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে। হাটজুড়ে এখন শুধুই আম আর আম। হিমসাগর (ক্ষীরসাপাত), গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, গুটি—বিভিন্ন জাতের আমে ভরে গেছে বাজার। সকাল থেকেই ভ্যান, ট্রলি করে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আম নিয়ে আসছেন চাষি ও পাইকাররা। চলছে দিনভর কেনাবেচা। 

তবে আমের হাটে ওজন নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারণ হাটে বাগানি, চাষি ও ব্যবসায়ীদের ৪৮ কেজিতে মণ হিসেবে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। সাধারণত এই আমগুলো হাটের বিভিন্ন আড়ৎদাররা কিনছেন। বিক্রেতাদের অভিযোগ- এমনিতে আমের দাম কম। তার ওপরে ৪৮ কেজিতে মণ।  

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে কয়েকদিন ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকলেও ছুটি শেষে দূর-দূরান্তের পাইকাররা হাটে ফিরতে শুরু করেছেন। এতে আমের সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি কিছু জাতের আমের দামেও দেখা গেছে সামান্য ঊর্ধ্বগতি। তবে সব জাতের ক্ষেত্রে একই চিত্র নয়। কোনো কোনো আমের দাম এখনো ঈদের আগের তুলনায় কম রয়েছে।

জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার দুই দিন হাট বসে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে হাট ঘুরে দেখা যায়, আড়ৎ ও খোলা জায়গাজুড়ে আমের স্তূপ। কোথাও ঝুড়িতে করে আম নামানো হচ্ছে, কোথাও চলছে ওজন মাপা। আবার কেউ ব্যস্ত আম বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজে। পরিবহন শ্রমিকদের ছোটাছুটি আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরকষাকষিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে হাট।

হাটে আমের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও বেচাকেনা চলছে জমজমাটভাবে। বর্তমানে আম্রপালি আম প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। লক্ষণভোগের দাম ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ। ক্ষীরশাপাত (হিমসাগর) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। আর গোপালভোগের দাম রয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে।

আমচাষি সম্রাট আলী জানান, প্রতিমণ হিমসাগর আম বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ঈদের পর বাইরের জেলার পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। এতে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজারে আমের পরিমাণও অনেক বেশি। 

তিনি বলেন, গোপালভোগ প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং হিমসাগর ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। শুরুতে ক্রেতা কম থাকলেও এখন আসছে। 

ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে তিনি গোপালভোগ আম প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। মঙ্গলবার একই আকারের আম বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর মৌসুমের শেষ দিকে গোপালভোগের দাম বেড়েছিল। এবার ঈদের পর বাড়েনি। 

বাগান থেকে আম কিন হাটে বিক্রি করেন ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, বানেশ্বর হাটে ৪৮ কেজিতে মণ কেনাবেচা হয়। এটা দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। এবার যেহেতু আমের দাম কম, তারপরও মণে তারা ৪৮ কেজি আম নিচ্ছেন। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে আমের সরবরাহ দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজশাহীর আম পাঠানো শুরু হয়েছে পুরোদমে। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাইরের জেলার ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে।

মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে বানেশ্বর হাট এখন আমের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা যেমন তুলনামূলক কম দামে আম পাচ্ছেন। 

ঢাকার বাড্ডায় গোপালভোগ আম পাঠাবেন শ্যামলী খাতুন। তিনি বানেশ্বর হাট থেকে তিন মণ আম কিনেছেন। তিনি বলেন- আর কয়েকদিন পরে গোপালভোগ আম বাজারে থাকবে না। আমের দাম এখনো তুলনামূলক কম রয়েছে। তবে পাঠানোর খরচ বেশি। আগে আম পাঠাতে প্লাস্টিকের বাস্কেটের ( ক্যারেট) দাম ছিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এখন ২৫০ থেকে ৩০০ ছাড়িয়েছে। এর ওপরে পাঠানোর খরচ তো আছেই।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এ বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া ও মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলনও বেশি হয়েছে। ঈদের পর বাজারে আমের দাম তুলনামূলকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে