এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : শেরপুর-২ বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও অপর এক বিএনপি নেতার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় হতাশায় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
ঋণখেলাপি থাকায় বাতিল করা হয় জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকায় ভোটে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে।
তবে এ দুই দল নির্বাচনি জোট করায় আসন সমঝোতা হলে কোনো একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে । তবে সবকিছুর জন্য আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেদিন আপিল আদালতে বিএনপি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে । বিএনপির প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেলে ভোটের লড়াই বেশ জমে উঠবে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আশা-নিরাশার দোলাচলে অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাইবাছাইকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করায় দলের নেতাকর্মীরা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। একই আসন থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস খান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দলীয় মনোনয়ন সংযুক্ত না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়নপত্রে প্রার্থী ইলিয়াস খান স্বাক্ষর নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ফলে শেষ পর্যন্ত ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা আপিলে বহাল থাকবেন, নাকি ইলিয়াস খান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আপিলে শেষ ভরসা হবেন- এমন সমীকরণে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়ার মধ্যে ভোটে লড়াই হবে না, সমঝোতা হবে।
নির্বাচনি হাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু বিএনপিতেই প্রার্থীর দেখা মেলে আটজন। এরমধ্যে পাঁচজন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিল সরব। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন মিলে সর্বমোট ১২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেন পাঁচজন। এরা হলেনÑবিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বিএনপি প্রার্থী দাবিদার ইলিয়াস খান। গত ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাইকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় প্রথমে স্থগিত এবং পরবর্তীতে বাতিল করা হয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন। দলীয় মনোনয়ন সংযুক্তি না থাকায় বাতিল করা হয় বিএনপি নেতা হিসেবে দাখিলকারী ইলিয়াস খানের মনোনয়ন। ঋণখেলাপী থাকায় বাতিল করা হয় জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন। ফলে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ।
তবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, ইলিয়াস খান তার দাখিলকৃত মনোনয়ন ফরমে নিজে স্বাক্ষর করেছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
যদিও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ দিলে এবং প্রার্থিতা বহাল থাকলে বিষয়টি যাচাই যোগ্য হবে।
এমতাবস্থায় বিএনপির শেষ ভরসা কে হবেন, এ নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক, এমনকি ভোটারদের মাঝে আশা-নিরাশার দোলাচল এবং হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বিষয়ে মতামত নিতে ফাহিম চৌধুরী ও ইলিয়াস খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে বারবার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের রিসিভ কপি দিয়ে আপিলে টিকলে ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকবে। একইভাবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে আপিলে টিকলে ইলিয়াস খানের প্রার্থিতাও ফিরে পাবেন। কাজেই এখনো বিএনপিতে প্রার্থিতার আশার আলো রয়েছে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের আওতাধীন।
এদিকে জোটের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল কায়েশ প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকতে চেষ্টার পাশাপাশি, স্বপ্ন বুনছেন এমপি হওয়ার। অন্যদিকে জোটের পক্ষে গোলাম কিবরিয়া চূড়ান্ত হবেন এবং বিজয়ী হবেনÑএমন আলোচনাও জোরালো সমর্থকদের মাঝে। যদিও আপীল শেষে ৯ জানুয়ারি ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেরপুর-২। ফাহিম চৌধুরী ও তার নেতাকর্মীরা মনে করেন, গত ২৬ ডিসেম্বর পাঠানো অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন এরই মধ্যে গৃহীত হবে এবং আপিলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকবে। তবে বিএনপির আরেক অংশ মনে করছেন, ফাহিম চৌধুরী এত অল্প সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের গৃহীত কপি সংগ্রহে ব্যর্থ হবেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রাখতে বিএনপি ইলিয়াস খানকে দলীয় মনোনয়ন দেবে এবং আপিলে তিনিই হবেন শেষ ভরসা।