এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : তিন মাস বয়সী মা হারা এতিম শিশু আব্দুল্লাহকে কোলে তুলে নিয়েছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন। মায়ের মৃত্যুর পর দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠা শিশুটি যেন ক্ষণিকের জন্য খুঁজে পেল মায়ের স্নেহ, মমতা আর উষ্ণতার পরশ। তার নিষ্পাপ হাসি আর মায়াভরা চাহনি উপস্থিত সবার হৃদয়কে ছুঁয়ে দেয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণশুনানিতে এমন ঘটনা ঘটে।
এদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের কোলে শিশু আব্দুল্লাহর স্নেহমাখা মুহূর্তের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। ছবিটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। এ ছাড়া অনেকেই ছবিটি নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে জেলা প্রশাসকের প্রতি প্রশংসা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। একজন প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার মাতৃসুলভ স্নেহ, মমতা ও মানবিক আচরণও প্রশংসা কুড়িয়েছে নেটিজেনদের।
জানা যায়, রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি চলছিল। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে মা হারা এতিম শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে সেখানে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের কাছাকাছি বিপরীত পাশের একটি চেয়ারে বসেন তারা। সেখান থেকেই বারবার জেলা প্রশাসকের কোলে ওঠার জন্য হাত বাড়াচ্ছিল শিশুটি। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন এবং তার সঙ্গে কিছুক্ষণ খুনসুটি করেন।
শিশুটিকে কোলে থেকে নামিয়ে প্রশাসনিক কাজে ফেরার চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু কিছুতেই যেন কোলে থাকার আবদার ছাড়তে চাইছিল না শিশু আব্দুল্লাহ। বারবার তাকে নামানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত যেন হার মানতে হয় জেলা প্রশাসককে। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে স্নেহের আদর আর খুনসুটি।
একপর্যায়ে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু আব্দুল্লাহ। তার কান্না দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনও। তার চোখের কোণে জমে থাকা পানি উপস্থিত সবার নজরে আসে।
শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, শিশুটির এমন মায়াভরা মুহূর্ত উপস্থিত কর্মকর্তা ও গণশুনানিতে আসা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সবার মনে তখন একটাই অনুভূতি- মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই অবুঝ শিশুটি হয়তো অন্য এক মায়ের কোলে খুঁজে পেয়েছিল।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহাম্মেদ বলেন, মুহূর্তটি স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো। অবুঝ শিশুটিকে কোলে থেকে নামিয়ে দেওয়া সত্যিই কষ্টের ছিল। সেখানে উপস্থিত আমরা সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটি অন্য এক মায়ের কোলে উঠে যেন নিজ মাকে অনুভব করছিল। আসলে সব মায়ের কোলই অবুঝ শিশুর কাছে আপন এবং নিরাপদ।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমি নিজেও একজন মা। যেকোনো শিশুর প্রতিই আমার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। তাই আব্দুল্লাহর বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। আমি নিয়মিত শিশুটির খোঁজখবর রাখব।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে আব্দুল্লাহর মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই সময় আব্দুল্লাহ মায়ের কোলে বসে দুধ পান করছিল। মাত্র দেড় মাস বয়সে মাকে হারানো শিশুটি এখন তার দাদা-দাদির কাছে রয়েছে। তিন ভাইবোনের মধ্যে আব্দুল্লাহ সবার ছোট। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।