রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬, ০৪:৪১:৪৩

দিনে-রাতে ক্রেতার ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা

দিনে-রাতে ক্রেতার ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা

সাঈদা ইসলাম: গত শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটা। ক্রেতায় ঠাসা জহুর হকার্স মার্কেট। যেন জনস্রোত। সবাই ব্যস্ত পোশাক কেনায়। কেউ এসেছেন পুরো পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। দরদাম, হাঁকডাকে সরগরম বিপণিকেন্দ্রের চারপাশ। ১০ বছর বয়সী ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসেন নগরের আগ্রাবাদ দাইয়্যাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাওরিন সুলতানা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ভিড় ঠেলে ছেলের জন্য ক্লান্তিহীনভাবে শার্ট-প্যান্ট খুঁজছিলেন তিনি। শাওরিন বললেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করতে আজই প্রথম বের হলাম। বৃহস্পতিবার স্বামী ঈদ বোনাস পেয়েছেন। তাই প্রথমেই ছেলের জন্য পোশাক কিনছি। এরপর আত্মীয়স্বজন ও নিজেদের জন্য কিনব।’ ঘণ্টা খানেক পর পাশের রিয়াজউদ্দিন বাজারে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। ক্রেতার ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা।


ঈদ ঘনিয়ে আসছে। নতুন পোশাক কিনতে স্রোতের মতো ক্রেতারা যাচ্ছেন নগরের জহুর হকার্স মার্কেট ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে। এই দুটি বিপণিকেন্দ্র নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কেনাকাটার অন্যতম পছন্দের জায়গা। শুক্রবার বিপণিকেন্দ্র দুটিতে ঘুরে দেখা গেল, প্রতিটি সরু গলিতে যেন চলছে ক্রেতার মিছিল। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, প্যান্ট, শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় করে কেনাকাটা করছেন তাঁরা। বিক্রেতারা বলছেন, ১৫ রমজানের পর থেকে এই দুটি বিপণিকেন্দ্রে মূল বেচাকেনা শুরু হয়। এখন পুরোদমে জমে উঠেছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ১০০ গজের মধ্যেই এই দুটি মার্কেট। রিয়াজউদ্দিন বাজারের দি খাজা ফ্যাশনে সেলাইবিহীন থ্রি–পিস কিনতে আসেন তাসলিমা ও সানিয়া নামের দুই বোন। অনেক খুঁজে নিজের জন্য দেড় হাজার টাকা দিয়ে পাথর বসানো ঘিয়ে রঙের একটি থ্রি–পিস কেনেন তাসলিমা। তাসলিমা নিজেও একটি বুটিকের দোকানে কাজ করেন। বেতন পাওয়ার পর কেনাকাটা করতে এসেছেন বলে জানান। খাজা ফ্যাশনের বিক্রেতা মো. সেলিম জানান, ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার সুতি থ্রি–পিসের কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে এবার।


জহুর হকার্স মার্কেটে ছয় বছর ধরে পাঞ্জাবি বিক্রি করছেন মো. শাহজাহান। তাঁর দোকানের নাম বাঙালিআনা। তিনি জানালেন, গরমের কারণে ক্রেতারা সুতি পাঞ্জাবি বেশি পছন্দ করছেন। ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে সেমি লং পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। জহুর হকার্স মার্কেটে মেয়েদের ঈদ পোশাকের দোকান নেই বললেই চলে। কয়েকটি দোকানে মেয়েশিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেদের পোশাক বেশি পাওয়া যায় বলে এই মার্কেটটিতে পুরুষের ভিড় বেশি দেখা গেল। বিশেষ করে, তরুণেরা দল বেঁধে কেনাকাটা করছেন এখন। তিন বন্ধুকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সজল জানালেন, প্যান্ট কেনার জন্য হকার্স মার্কেট তাঁর সব সময়ের প্রিয় জায়গা। ভিড় দেখা গেল রিয়াজউদ্দিন বাজারের শাড়ির দোকানগুলোতেও। বিভিন্ন দোকানে ঢুকে নারী ক্রেতারা পছন্দের শাড়ি খুঁজছেন। দামে বনলে বেশির ভাগ ক্রেতাই শাড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

নুরজাহান নামের এক ক্রেতা বললেন, ভিড় আর গরম ভোগালেও শাড়ি কেনার জন্য এখানে আসতে ভালো লাগে। কারণ এখানে ইচ্ছামতো দামাদামি করা যায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারের শাড়ি গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী আবদুল মোমেন বললেন, এবার টাঙ্গাইলের সুতির শাড়ির বিক্রি বেশ ভালো। ক্রেতারা এখনো প্রধানত উপহার দেওয়ার জন্য শাড়ি কিনছেন। নিজের জন্য যাঁরা শাড়ি কিনছেন, তাঁরা দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে থাকা শাড়িগুলোই বেশি পছন্দ করছেন। শেষের দিকে দামি শাড়ি বেশি বিক্রি হবে। বিক্রেতারা জানান, টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি ছাড়াও সম্বলপুরি, জামদানি, মিরপুরের কাতান, জর্জেটের ওপর হালকা কাজ করা শাড়ির চাহিদা বেশি। কিশোরী ও তরুণীরা লেহেঙ্গা বেশি পছন্দ করছেন।


রিয়াজউদ্দিন বাজারে কাপড় ও নকশা ভেদে সেলাইবিহীন থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। ৩৫০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে মিলবে শাড়ি। লেহেঙ্গা ও তৈরি সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে। পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ২৫০০ টাকায়, ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে প্যান্ট ও শার্ট মিলছে। বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। এই দুটি বিপণিকেন্দ্র ছাড়াও ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে রিয়াজউদ্দিন বাজার লাগোয়া তামাকুমন্ডি লেনে। মূলত তরুণেরাই এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। জুতা ও বিদেশি পণ্যের জন্য এই মার্কেটটির খ্যাতি আছে।-প্রথম আলো

২৬ জুন, ২০১৬ এমটিনিউজ২৪/সবুজ/এসএ

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে