এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : হঠাৎ গাইবান্ধায় সরকারিভাবে নির্ধারিত দামে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ভোক্তাদের জিম্মি করে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। এদিকে খুচরা বাজারে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি হওয়ার কারণে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ডিলাররা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে কোনো গ্যাস সংযোগ নেই। ফলে রান্নার কাজে গৃহিণী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবার একমাত্র ভরসা এলপিজি সিলিন্ডার। কিন্তু এই নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় বাজারে চলছে এলপিজি গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। বিক্রেতারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের কোনো তোয়াক্কাই করছেন না।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও গাইবান্ধার বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় অনেকটা জিম্মি হয়েই বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাদের।
শহরের পিকে বিশ্বাস রোডের বাসিন্দা গৃহিণী জবা রানী বলেন, সরকারি দামের কথা বললে দোকানদাররা সরাসরি বলে দেয় গ্যাস নাই। নিরুপায় হয়ে তাদের বেঁধে দেওয়া বাড়তি দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে আমাদের।
বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে গ্যাস কোম্পানির ডিলারদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামে (১২ কেজি সিলিন্ডার ডিলার পর্যায়ে ১ হাজার ৯০০ টাকা) খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছেন। খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত লাভ করায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এলপিজি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ডিলারদের বিক্রির ওপর।
বিইআরসি-এর নিয়ম অনুযায়ী, ডিলার পর্যায়ে ১ হাজার ৯০০ টাকা এবং গ্রাহক তথা খুচরা পর্যায়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন প্রথম আলোকে বলেন, 'বাজারে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং বা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'